শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার তত্ত্বে ব্যাক্ষা: শ্রীশ্রীকাল্কি পরমেশ্বর ভগবান পরম্বৈষ্ণব সদ্গুরু মহাৠষি মালোবাবা (তাপস মালো) | শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা। একজন যোগী, যোদ্ধা, শিল্পী, লেখক, কবি, শ্বাস্ত্রবীদ্,আচার্য্য, স্ব-গায়েত্রী, স্ব-যন্ত্র, স্ব-মন্ত্রের অধীকারী,সত্য শাশ্বত্

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।
নিয়ম ১.২!!
সূত্রঃ এতৎ মালোবাবায়ং ব্রহ্মসূত্রঃ নামোওলন্ মন্ত্রঃ নিত্যম্ প্রাতুত্থানৈয়ং জাগরণম্ !!
অর্থঃ ” এখন, শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার ব্রহ্মসূত্র নাম উত্তোলন মন্ত্র প্রতিদিন প্রভাতে বা সকালে উচ্চসহকারে জাগরণ করুন, ইহাতে ১৪টি ভূবনে নাম জাগরণ হয়।”
ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ !!১০০৮!!
শ্বাস্ত্র নামঃ নিয়ম ১.২ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!
লেখকঃ শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা
প্রকাশকঃ স্বয়ংবল গুরুকুল প্রকাশনি
স্থানঃ শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম, শম্ভল ধাম( ত্রিবেণী- কালনা)।
সত্যানন্দপুর, শেরপুর উত্তরপাড়া, নয়াসরাই, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ ৭১২৫১৩
শ্রীশ্রীকাল্কি মালোসংহিতা গ্রন্থের এই দ্বিতীয় শ্লোকটি সাধকের প্রাতঃকালীন নিত্যানুষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিমান একটি বিধি।
মালোসংহিতা: নিয়ম ১.২ (বিশ্লেষণ ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য)
- মূল সূত্র: এতৎ মালোবাবায়ং ব্রহ্মসূত্রঃ নামোওলন্ মন্ত্রঃ নিত্যম্ প্রাতুত্থানৈয়ং জাগরণম্ !!
- অর্থ: শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার এই ব্রহ্মসূত্র নাম উত্তোলন মন্ত্র প্রতিদিন প্রাতঃকালে (ঘুম থেকে উঠেই) উচ্চস্বরে (বা স্পষ্ট কণ্ঠে) জাগরণ বা উচ্চারণ করতে হবে।
- মহিমা: এর ফলস্বরূপ সমগ্র চতুর্দশ ভূবনে (সৃষ্টির সমস্ত স্তরে) সেই ইষ্টনামের স্পন্দন ও জাগরণ ছড়িয়ে পড়ে।
- মূল মন্ত্র ও সংখ্যা:
\text{“ ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ ” (১০০৮ বার)}
এই নিয়মের বাস্তবায়নের (ব্যবহারিক) নির্দেশাবলী
১. সময়ের নির্দিষ্টতা: ব্রাহ্মমুহূর্তে বা প্রাতঃকালে শয্যাত্যাগের অব্যবহিত পরেই, প্রাতঃকৃত্য ও মুখশুদ্ধি সেরে এই নাম উত্তোলন করতে হয়। এটি দিনের প্রথম বাক্য বা ধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ২. উচ্চারণের মাত্রা: শ্লোকে “জাগরণম্” এবং আগের আলোচনায় উল্লেখিত বাচিক/উপাংশু জপের নিয়মানুযায়ী, এই মন্ত্রটি স্পষ্ট ও গম্ভীর কণ্ঠে (বা বাচিক পদ্ধতিতে) উচ্চারণ করা উচিত, যাতে নিজের কানে তার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়। ৩. চতুর্দশ ভূবনে স্পন্দন: যখন সাধক ভক্তি ও বিশ্বাসের সাথে এই ব্রহ্মসূত্র মন্ত্র উচ্চারণ করেন, তখন তা কেবল তাঁর নিজস্ব মন বা ঘরকে নয়, বরং সূক্ষ্ম তরঙ্গে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা চতুর্দশ ভূবনকে পবত্র ও সুরভিত করে তোলে। ৪. ১০০৮ সংখ্যার পবিত্রতা: প্রতিদিন প্রাতঃকালে নিয়মিত ১০০৮ বার এই মন্ত্র জপ করলে সাধকের চারপাশে একটি শক্তিশালী দিব্য সুরক্ষা বলয় বা ‘কবচ’ তৈরি হয়, যা সারাদিনের কার্যকলাপে নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা করে।
[বন্দে মালোবাবায়ং !৩!
বন্দে মহাপুরুষোওম মালোবাবায়ং !৪!
বন্দেহং পরমপুরুষোত্তম্ মালোবাবায়ং !৪!
ওঁ মালোববায়ং নমঃ !!৩!!]
মূল সূত্র: এতৎ মালোবাবায়ং ব্রহ্মসূত্রঃ নামোওলন্ মন্ত্রঃ নিত্যম্ প্রাতুত্থানৈয়ং জাগরণম্ !!
অর্থ: শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার এই ব্রহ্মসূত্র নাম উত্তোলন মন্ত্র প্রতিদিন প্রাতঃকালে (ঘুম থেকে উঠেই) উচ্চস্বরে (বা স্পষ্ট কণ্ঠে) জাগরণ বা উচ্চারণ করতে হবে।
ওঁ মালো বাবায়ং নমঃ !! ১০০৮ !!

মালোবাবার ব্রহ্মসূত্র নাম উত্তোলন মন্ত্র জপ করার সময় শারীরিক ও মানসিক কী কী শুচিতা রক্ষা করা আবশ্যক?
শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিয়ম ১.২ অনুযায়ী প্রাতঃকালে ব্রহ্মসূত্র নাম উত্তোলন মন্ত্র (“ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ” ১০০৮ বার) জপ করার সময় সাধককে নির্দিষ্ট কিছু কায়িক (শারীরিক) ও মানসিক শুচিতা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রক্ষা করতে হয়। যেহেতু এটি চতুর্দশ ভূবনে নাম জাগরণের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও পবিত্র বিধি, তাই এর শুচিতার মানও অতীব উচ্চ।
নিচে অপরিহার্য শুচিতা ও নিয়মাবলী আলোচনা করা হলো:
১. শারীরিক শুচিতা (Physical Purity)
- প্রাতঃকৃত্য ও শৌচকর্ম: ঘুম থেকে ওঠার পর মন্ত্র জপে বসার আগেই সমস্ত প্রাতঃকৃত্য (মল-মূত্র ত্যাগ ইত্যাদি) সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। শরীর অপবিত্র রেখে বা মলমূত্রের বেগ চেপে রেখে এই নাম জপ করা নিষেধ।
- স্নান বা অঙ্গশুদ্ধি: ভোরে সম্ভব হলে সম্পূর্ণ স্নান করে নেওয়া সবচেয়ে উত্তম। যদি শীতকাল বা অন্য কোনো কারণে পূর্ণ স্নান সম্ভব না হয়, তবে হাত, মুখ, পা এবং বিশেষ করে মুখগহ্বর (কুলি করে) ও আচমন করে শরীর ভালোভাবে পবিত্র করে নিতে হবে।
- পবিত্র ও ধৌত বস্ত্র পরিধান: রাতে পরিধান করা কাপড় পরিবর্তন করে প্রাতঃকালীন জপের জন্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার, ধৌত ও হালকা রঙের শুচি বস্ত্র (যেমন শুদ্ধ ধুতি বা পরিষ্কার সুতি পোশাক) পরিধান করতে হবে।
- মুখ ও বাক্শুদ্ধি: ঘুম থেকে উঠে অন্য কোনো লৌকিক, অপ্রয়োজনীয় বা অসৎ কথা বলার আগে দিনের প্রথম বাক্য বা ধ্বনি হিসেবে এই নাম উত্তোলন করা বাঞ্ছনীয়।
২. মানসিক শুচিতা (Mental Purity)
- জাগতিক চিন্তা বর্জন: ঘুম ভাঙার সাথে সাথেই জাগতিক উদ্বেগ, কর্মব্যস্ততা বা সাংসারিক চিন্তা মনে স্থান না দিয়ে মনকে সম্পূর্ণভাবে ইষ্টমুখী করা।
- ভক্তি ও আত্মসমর্পণের ভাব: মন্ত্রটি যান্ত্রিকভাবে সংখ্যা পূরণের জন্য না করে গভীর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং গুরুর চরণে পূর্ণ আত্মসমর্পণের ভাব নিয়ে উচ্চারণ করা।
- ক্রোধ, অহংকার ও লোভ ত্যাগ: প্রাতঃকালে মনকে শান্ত, নির্মল ও সদ্বাঙময় রাখতে হবে। মনে কোনো রূপ হিংসা, রাগ বা চঞ্চলতা নিয়ে এই ব্রহ্মসূত্র জপ করা ফলদায়ক হয় না।
৩. স্থান ও পরিবেশগত শুচিতা (Environmental Purity)
- পবিত্র আসন ও স্থান: ঘরের একটি নির্দিষ্ট পরিষ্কার স্থানে (অথবা জপবেদির সামনে) কুশাসন বা পশমের আসন পেতে বসতে হবে। অপরিষ্কার বিছানায় বসে বা নোংরা স্থানে এই মন্ত্র জপ করা নিষেধ।
- মুখের দিক ও পরিবেশ: পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে, পবিত্র ও শান্ত পরিবেশে বসে জপ সম্পন্ন করা উচিত, যাতে চতুর্দশ ভূবনে সেই সুষম স্পন্দন সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্রহ্মসূত্র নাম উত্তোলন মন্ত্র ১০০৮ বার জপ করার সময় নির্ভুলভাবে সংখ্যা গণনার নিয়ম কী?
শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিয়ম ১.২ অনুযায়ী প্রাতঃকালে ১০০৮ বার ব্রহ্মসূত্র নাম উত্তোলন মন্ত্র (“ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ”) জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। এত বড় সংখ্যা (১০০৮ বার) নির্ভুলভাবে গণনা করার জন্য জপমালায় সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও কৌশল অনুসরণ করতে হয়।
নির্ভুল সংখ্যা গণনার পরীক্ষিত ও শাস্ত্রীয় পদ্ধতিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. জপমালার আদর্শ মাপ (১০৮ দানা)
- একটি সাধারণ পূর্ণাঙ্গ জপমালায় ১০৮টি গুটিকা (দানা) এবং একটি বড় সুমেরু (গুরুদানা) থাকে।
- গণিতের হিসাব: ১০৮ দানার একটি মালা ঠিক ১০ বার সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে জপ করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায়:
\text{১০৮} \times \text{১০} = \text{১০৮০ বার}(যেহেতু আমাদের লক্ষ্য ১০০৮ বার জপ, তাই ১০ বার মালা ঘোরানোর পর সামান্য আগে থেমে যেতে হবে বা বিশেষ হিসাব রাখতে হবে।)
২. ১০০৮ সংখ্যা গণনার দুটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি
পদ্ধতি ক: ৯ মালা + ৮টি অতিরিক্ত জপ (সবচেয়ে সহজ ও প্রচলিত)
- ৯টি পূর্ণ মালা: জপমালার নিয়মানুযায়ী সুমেরু না ডিঙিয়ে মালা উল্টে উল্টে পর পর ৯টি পূর্ণ মালা (প্রতি মালায় ১০৮ বার করে) জপ সম্পন্ন করুন।
\text{৯} \times \text{১০৮} = \text{৯৭২ বার} - বাকি ৩৬ বার (বা নির্দিষ্ট ৮টি): ৯ মালা পূর্ণ হওয়ার পর দশম মালাটিতে সুমেরু থেকে শুরু করে মাত্র ৩৬টি গুটিকা জপ করুন (অথবা আপনার নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট অতিরিক্ত সংখ্যা পূর্ণ করে নিন)।
- আপনি যদি ঠিক ১০০৮ সংখ্যাটি নিখুঁতভাবে মেলাতে চান, তবে ৯৭২ বার জপের পর দশম মালায় ৩৬টি দানা গুনে জপ শেষ করতে পারেন।
পদ্ধতি খ: করমালা বা অন্য মাধ্যমের সাহায্যে গণনা (১০টি মালা পূর্ণ করার পর)
- অনেক সাধক ১০৮ দানার মালা পুরো ১০ বার (অর্থাৎ ১০৮০ বার) জপ করেন। বাড়তি ৭২টি জপ অতিরিক্ত করা অপরাধ বা দোষের নয়, বরং এটি সাধককে নিশ্চিত নিরাপত্তা দেয় যে কোথাও জপের সংখ্যা কম হয়নি (১০০৮-এর বেশি জপ হলে বাড়তি ফলই লাভ হয়)।
- আপনি যদি অবিকল ১০০৮ সংখ্যা মেলাতে চান, তবে ডান হাতের করমালার সাহায্যে অথবা বাঁ হাতের আঙুলের পর্ব গুনে বাকি হিসাব মেলাতে পারেন।
৩. জপ গণনায় বিভ্রান্তি এড়ানোর কিছু কৌশল
১. চিহ্ন বা কাউন্টার ব্যবহার (Mala Counter): ১০ মালা পূর্ণ করার সময় মাথার ছায়া বা গণনার ভুলে অনেক সময় মালা কয়টি হলো তা গুলিয়ে যায়। এটি এড়ানোর জন্য ১০টি ছোট বস্তু (যেমন ১০টি তুলসী পাতা, ছোট পাথর বা ম্যাচস্টিক) সামনে রাখতে পারেন। প্রতিটি মালা পূর্ণ হলে একটি করে পাতা সরিয়ে দিন। এভাবে ১০টি মালা সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে গোনা যায়। ২. সুমেরু প্রণাম ও মনঃসংযোগ: প্রতিটি মালা শেষ করে যখনই সুমেরুতে পৌঁছাবেন, তখন থামুন, ইষ্টকে প্রণাম জানিয়ে মালা উল্টে নিন। এই সংক্ষিপ্ত বিরতি আপনার মনকে সজাগ রাখে এবং গণনায় ভুল হতে দেয় না। ৩. মানসিক সজাগতা: সংখ্যা গণনার চেয়ে ইষ্টনামের গভীরতা ও উচ্চারণের শুদ্ধি প্রধান। তবে নিয়ম রক্ষার জন্য প্রারম্ভিক স্তরে এই বাহ্যিক গণনার শৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখা উচিত।
প্রতিদিনের জপ বা ১ লক্ষ জপ শেষে ইষ্টের চরণে কীভাবে জপফল সমর্পণ করতে হয়?
সাধনমার্গে জপ সম্পন্ন করার পর তার ফল বা পুণ্য নিজ অহংকারে ধরে না রেখে তা ইষ্টদেবতা ও গুরুর চরণে পূর্ণরূপে সমর্পণ (Arpana / Samarpana) করাই নাম সাধনার চূড়ান্ত ও পবিত্রতম পর্যায়। জপফল সমর্পণ না করলে সাধকের মনে ‘আমি জপ করেছি’—এই কর্তাভিমান বা অহংকার জন্ম নেয়, যা সাধনার পথে বড় বাধা।
প্রতিদিনের জপ অথবা ১ লক্ষ জপ পূর্ণ করার পর ইষ্টের চরণে জপফল সমর্পণ করার নিয়ম ও পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
১. জপ সমর্পণের মূল মন্ত্র ও শ্লোক
সনাতন ও ভক্তি শাস্ত্রে জপ শেষে একটি নির্দিষ্ট সমর্পণ মন্ত্র উচ্চারণ করে জল বা পুষ্প সহযোগে জপফল ইষ্টের চরণে অর্পণ করতে হয়। প্রচলিত ও সর্বজনগ্রাহ্য সমর্পণ মন্ত্রটি হলো:
“গুহ্যঅতিগুহ্যগোপ্তা ত্বং গৃহাণাস্মৎকৃতং জপম্। সিদ্ধির্ভবতু মে দেব ত্বৎপ্রসাদাৎ মহেশ্বরম্॥”
(অথবা সহজ বাংলায় ভক্তিভরে বলতে পারেন: “হে শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবা, আমার দ্বারা আজ যে জপ সাধিত হলো, তার সমস্ত ফল আপনার শ্রীচরণকমলে সমর্পণ করলাম। আমার কোনো দাবি নেই, আপনার কৃপাই আমার একমাত্র প্রাপ্তি।”)
২. সমর্পণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি (Step-by-Step Protocol)
- আসন থেকে ওঠার পূর্বে: জপের সমাপ্তিতে (মালা বা কর গণনা শেষ হওয়ার পর) তৎক্ষণাৎ আসন ছেড়ে উঠবেন না। আসনে স্থির হয়ে মেরুদণ্ড সোজা রেখে ২ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসুন।
- জল বা পুষ্প অর্পণ (যদি সম্ভব হয়): একটি তামার পাত্রে বা চামচে সামান্য জল ও একটি ফুল নিয়ে ইষ্টদেবতা বা শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার ছবি/বিগ্রহের সামনে বা ভূমিতে নিবেদন করুন।
- মানসিক উচ্চারণ: ওপরের সমর্পণ মন্ত্রটি অথবা আপনার হৃদয়ের আকুল ভাষা মনে মনে বা মৃদুস্বরে উচ্চারণ করুন।
- কর্তাভাব ত্যাগ: মনে মনে দৃঢ়ভাবে ভাবুন— “এই জপ আমি করিনি, আমার দ্বারা আমার ইষ্টই এই জপ করিয়ে নিয়েছেন। এর সমস্ত পুণ্য ও ফল কেবল তারই।”
- প্রণাম ও সমাপ্তি: আসনে বসেই ইষ্টের উদ্দেশ্যে মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে (বা ভক্তিভরে প্রণাম করে) সষ্টাঙ্গে প্রণাম সেরে জপ কর্ম সম্পন্ন করুন।
৩. ১ লক্ষ জপ বা মহাঅনুষ্ঠান শেষের বিশেষ সমর্পণ
প্রতিদিনের নিয়মিত জপের চেয়ে ১ লক্ষ বা দীর্ঘ ব্রতের জপ সমাপ্তির পর সমর্পণের মাত্রা আরও গভীর হয়:
- ব্রাহ্মণ বা গুরুর আশীর্বাদ: সম্ভব হলে এই মহাঅনুষ্ঠানের পর ইষ্টের প্রসাদ বিতরণ করুন এবং সাধু বা গুরুজনদের প্রণাম করে তাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করুন।
- ক্ষমা প্রার্থনা: জপকালে উচ্চারণ ত্রুটি, মনঃসংযোগের অভাব বা কোনো বিধিলঙ্ঘন হয়ে থাকলে সমর্পণের সময় ইষ্টের কাছে তা ক্ষমা চেয়ে নিন— “অপরাধ সহস্রাণি ক্রিয়ন্তে অহর্নিশং ময়া। দাসোঽয়মিতি মাং মত্বা ক্ষমস্ব পরমেশ্বরম্।”
সাধনার সারাংশ: জপ হলো বীজ বপন আর সমর্পণ হলো ফসল কেটে ঈশ্বরের ভাণ্ডারে তুলে দেওয়া। সমর্পণহীন জপ অহংকার বাড়ায়, আর সমর্পিত জপ হৃদয়কে নির্মল ও ঈশ্বরমুখী করে তোলে।
জপ শেষ হওয়ার পর জপমালা কোথায় এবং কী নিয়মে পবিত্র স্থানে রাখতে হয়?
জপ বা সাধনা শেষ হওয়ার পর জপমালা যত্রতত্র ফেলে রাখা বা অসাবধানতাবশত রেখে দেওয়া একেবারেই অনুচিত। জপমালা হলো সাধকের শক্তির আধার এবং গুরুর আশীর্বাদের প্রতীক। তাই জপ শেষে মালার পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষা করার কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:
১. জপমালা রাখার পবিত্র স্থান (Sacred Place)
- ইষ্টের আসন বা মন্দিরে: জপমালা সবসময় ঘরের দেবস্থানে, ইষ্টদেবতা বা শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার ছবির সামনে পবিত্র স্থানে রাখা উচিত।
- জপ-ঝুলি (Mala Bag): জপমালা উন্মুক্ত অবস্থায় না রেখে একটি পরিষ্কার, পবিত্র সুতি বা সিল্কের কাপড়ের তৈরি ছোট্ট থলিতে (যাকে জপ-ঝুলি বা গোমুখী বলা হয়) রেখে দেওয়া সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। এটি মালার শক্তিকে বাইরের অশুচি থেকে রক্ষা করে।
২. জপমালা রাখার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী
- মাটিতে সরাসরি রাখা নিষেধ: জপমালা ভুলেও কখনো সরাসরি মেঝে বা মাটিতে নামিয়ে রাখবেন না। রাখতে হলে একটি পবিত্র আসন, কাপড় বা বেদির ওপর রাখুন।
- অশুচি স্থান থেকে দূরে রাখা: শোবার ঘরের বিছানায়, পড়ার টেবিলের নোংরা জায়গায় বা রান্নাঘরে জপমালা রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমন স্থানে রাখুন যেখানে কোনো অপ্রবিত্র বা অস্পৃষ্ট হাতের স্পর্শ না লাগে।
- সুমেরু লঙ্গন না করা (সঞ্চয়ের সময়): জপ শেষ করে মালা ব্যাগে বা থলিতে ভরার সময় খেয়াল রাখবেন যেন সুমেরু দানাটি অতিক্রম করে উলটোভাবে রাখা না হয়। যেভাবে জপ শেষ হয়েছে, সেভাবেই গুছিয়ে রাখতে হয়।
- অন্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ: আপনার ব্যক্তিগত জপমালা একান্তই আপনার নিজের। পরিবারের অন্য কেউ বা অন্য কোনো ব্যক্তি যেন সেই মালা ব্যবহার না করে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।
৩. মালার যত্ন ও শুদ্ধিকরণ
- নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মালায় সাধকের শরীরের ঘাম বা সূক্ষ্ম ময়লা জমতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর (যেমন প্রতি পূর্ণিমায় বা বিশেষ উৎসবে) জপমালা গঙ্গাজল বা পবিত্র জলে ধুয়ে, ধূপের ধোঁয়া দেখিয়ে পুনরায় শুদ্ধ করে নিতে পারেন।
সাধনার বার্তা: জপমালাকে জীবন্ত শক্তির প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধা করলে মালাও সাধকের জপে দ্রুত সিদ্ধি ও একাগ্রতা লাভে সাহায্য করে।
সাধনার জন্য কোন উপাদানের জপমালা (যেমন রুদ্রাক্ষ, তুলসী বা চন্দন) ব্যবহার করা সবচেয়ে ফলদায়ক?
সাধনমার্গে জপমালা নির্বাচনের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জপের উদ্দেশ্য, ইষ্টদেবতার স্বরূপ এবং সাধনার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উপাদানের জপমালা ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। রুদ্রাক্ষ, তুলসী বা চন্দন—প্রতিটি উপাদানেরই নিজস্ব বিশেষ শক্তি ও আধ্যাত্মিক গুণ রয়েছে।
সাধনার জন্য কোন উপাদানের মালা ব্যবহার করা সবচেয়ে ফলদায়ক, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. তুলসী মালা (Tulsi Mala)
- প্রকৃতি ও শক্তি: তুলসী পাতা ও কাঠ বিষ্ণুপ্রিয়া এবং অত্যন্ত সাত্ত্বিক। এটি ভগবান বিষ্ণু, কৃষ্ণ, রাম এবং অবতার পুরুষদের নাম জপের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ।
- কার জন্য ফলদায়ক: যাঁরা পরম ভক্তি, প্রেম, শান্তি এবং ইষ্টের চরণে আত্মনিবেদনের পথে চলেন, তাঁদের জন্য তুলসী মালা অপরিহার্য। এটি মনকে দ্রুত শীতল ও পবিত্র করে।
- বিশেষ নিয়ম: তুলসী মালা ব্যবহারের সময় শারীরিক ও মানসিক শুচিতার কড়া নিয়ম মানতে হয় (আমিষ আহার বা অপবিত্র অবস্থায় তুলসী মালা স্পর্শ করা নিষেধ)।
২. রুদ্রাক্ষ মালা (Rudraksha Mala)
- প্রকৃতি ও শক্তি: মহাদেব শিবের নয়নজল বা শক্তির প্রতীক হলো রুদ্রাক্ষ। এটি অত্যন্ত তেজস্বী, শক্তিশালী এবং ওজঃবর্ধক।
- কার জন্য ফলদায়ক: শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার মতো শক্তি ও প্রলয়ঙ্করী তেজযুক্ত ইষ্টের সাধনা, মহাশক্তি জপ, উগ্র বা তীব্র সাধনা এবং আত্মিক সুরক্ষা বলয় তৈরির জন্য রুদ্রাক্ষ মালা সর্বশ্রেষ্ঠ। এটি সাধকের ভেতরের অলসতা ও তমোভাব দূর করে সজাগ ও শক্তিশালী করে তোলে।
- বিশেষ নিয়ম: রুদ্রাক্ষ সর্বজনীন; এটি তুলসীর মতো কঠোরভাবে নিরামিষাশী বা শুচিতার নিয়মে বাঁধা নয়, তবে সাধনার পবিত্রতা বজায় রাখা সবসময়ই বাঞ্ছনীয়।
৩. চন্দন মালা (Sandalwood Mala)
চন্দন কাঠ মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে এবং তাদের কার্যকারিতাও ভিন্ন:
- শ্বেত চন্দন (White Sandalwood): এটি মনকে শান্ত ও স্নিগ্ধ করে। শান্তি কর্ম, মানসিক স্থিরতা বৃদ্ধি এবং শান্তিদায়ক ইষ্টমন্ত্র জপের জন্য এটি চমৎকার।
- রক্ত চন্দন (Red Sandalwood): এটি শক্তি, সিদ্ধি এবং দেবী বা তেজস্বী দেবতার সাধনায় ব্যবহৃত হয়। এটি সাধকের মধ্যে একাগ্রতা ও দৃঢ়তা বাড়ায়।
কোন মালাটি আপনার জন্য সবচেয়ে ফলদায়ক হবে?
১. ইষ্টের স্বরূপ অনুযায়ী: আপনার ইষ্টদেবতা বা গুরুর নির্দেশ অনুযায়ী মালা নির্বাচন করা সবচেয়ে শ্রেয়। শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার ব্রহ্মসূত্র নাম বা শক্তির সাধনার ক্ষেত্রে রুদ্রাক্ষ মালা অথবা পবিত্র তুলসী মালা—উভয়ই অত্যন্ত ফলদায়ক। বিশেষ করে গুরুর নির্দেশ ও ইষ্টের ভাব অনুযায়ী রুদ্রাক্ষ বা তুলসী যেকোনো একটি নির্দিষ্ট মালা বেছে নিয়ে তা আজীবন ব্যবহার করা উচিত। ২. মিশ্রণ বর্জন: বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন মালা ব্যবহার করা গেলেও, আপনার মূল ইষ্টনাম জপের মালাটি সবসময় একটিই থাকা উচিত এবং তা অত্যন্ত যত্নে ও গোপনীয়তায় সংরক্ষণ করা উচিত।
একটি নতুন জপমালা ব্যবহারের পূর্বে তার প্রাণপ্রতিষ্ঠা বা শুদ্ধিকরণের সঠিক নিয়ম কী?
বাজার থেকে বা কোনো পবিত্র স্থান থেকে নতুন একটি জপমালা সংগ্রহ করার পর, তা সরাসরি জপে ব্যবহার করা অনুচিত। নতুন মালায় জাগতিক স্পর্শ, মানুষের হাত এবং নানা ধরনের শক্তি লেগে থাকতে পারে। তাই জপে ব্যবহার করার আগে মালাটিকে আধ্যাত্মিকভাবে শুদ্ধ, পবিত্র এবং ইষ্টশক্তিতে জাগ্রত (প্রাণপ্রতিষ্ঠা) করে নেওয়া আবশ্যক।
নতুন জপমালা ব্যবহারের পূর্বে তার শুদ্ধিকরণ ও জাগরণের সঠিক পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
১. বাহ্যিক ও উপাদানগত শুদ্ধিকরণ (Physical Purification)
মালাটি তৈরি বা বহনের সময় তাতে যে স্থূল ময়লা বা অন্য কোনো শক্তি লেগে থাকে, তা দূর করতে হয়:
- গঙ্গাজল ও পঞ্চগব্য (বা জল) দিয়ে ধোয়া: মালাটিকে প্রথমে পবিত্র গঙ্গাজল অথবা পরিষ্কার জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। যদি মালাটি তুলসী কাঠ বা রুদ্রাক্ষের হয়, তবে জলের সংস্পর্শে বেশিক্ষণ না রেখে দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন (মনে রাখবেন, চন্দন বা কিছু বিশেষ কাঠের মালা জলে ভেজানো নিষেধ হতে পারে, সেগুলির ক্ষেত্রে কেবল গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করতে হয়)।
- ধূপ ও দ্বীপের ধোঁয়া দেখানো: ধোয়া মালাটিকে ইষ্টদেবতার বা শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার ছবির সামনে রেখে ধূপকাঠি ও প্রদীপের সুবাসিত ধোঁয়া ও আলোর ওপর ঘুরিয়ে পবিত্র করুন।
২. মন্ত্র বা শক্তির জাগরণ (Energizing / Pranapratishtha)
মালাটিকে কেবল একটি কাঠের বা বীজের টুকরো না ভেবে ইষ্টনামের জীবন্ত বাহক হিসেবে জাগিয়ে তুলতে হয়:
- আচমন ও পবিত্রতা: আসনে বসে প্রথমে তিনবার আচমন করে নিজের শরীর ও মন পবিত্র করে নিন।
- করস্পর্শ ও প্রার্থনা: মালাটি দুই হাতের তালুর মাঝে রেখে চোখ বন্ধ করুন এবং ইষ্টদেবতার বা গুরুর চরণে প্রার্থনা করুন—“হে প্রভু, এই জপমালাটি আমার সাধনার অঙ্গ হোক। এর প্রতিটি দানায় আপনার দিব্য শক্তি ও নামজ্যোতি জাগ্রত করুন।”
- প্রাণপ্রতিষ্ঠা মন্ত্র বা মূল মন্ত্র জপ: ইষ্টের মূল মন্ত্র বা আপনার গুরুদত্ত ব্রহ্মসূত্র মন্ত্রটি (যেমন: “ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ”) নতুন মালায় কমপক্ষে ১০৮ বার (এক মালা) জপ করুন। এই জপের মাধ্যমে মালার মধ্যে আপনার নিজস্ব সাধনার শক্তি ও ইষ্টের স্পন্দন প্রতিস্থাপিত হয়।
৩. বিশেষ সংরক্ষণ ও প্রথম ব্যবহার
- জপ-ঝুলিতে স্থাপন: শুদ্ধিকরণ ও জাগরণ সম্পন্ন হওয়ার পর মালাটিকে সঙ্গে সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানে না রেখে একটি পরিষ্কার সুতি বা সিল্কের কাপড়ের থলিতে (গোমুখী বা জপ-ঝুলি) সংরক্ষণ করুন।
- শুভ দিন বা তিথি: নতুন মালা ব্যবহারের জন্য কোনো শুভ দিন (যেমন পূর্ণিমা, একাদশী, বৃহস্পতিবার বা রবিবারের মতো পবিত্র বার) বেছে নেওয়া অত্যন্ত মঙ্গলদায়ক।
সাধনার বার্তা: শুদ্ধ ও জাগ্রত মালা সাধকের জপের গতিকে তীব্র করে এবং মনের একাগ্রতা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
জপ করার সময় সুমেরু দানা পার হওয়ার সঠিক নিয়ম ও তার আধ্যাত্মিক কারণ কী?
জপ করার সময় জপমালার প্রধান বা বড় দানাটিকে সুমেরু (বা গুরুদানা) বলা হয়। ১০৮টি দানার বৃত্তে সুমেরু হলো জপের শুরু ও শেষের মিলনবিন্দু।
জপ করতে করতে যখন শেষ দানায় পৌঁছানো যায়, তখন সুমেরু লঙ্গন করার বা পার হওয়ার একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম রয়েছে। এই নিয়ম এবং তার পেছনের আধ্যাত্মিক কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সুমেরু পার হওয়ার সঠিক নিয়ম (How to cross the Meru)
- সুমেরু কখনো লঙ্গন (Cross over) করা যায় না: একটি মালা সম্পূর্ণ হওয়ার পর (১০৮ বার জপ শেষ করে) যখন আপনি সুমেরু দানায় পৌঁছাবেন, তখন সরাসরি সুমেরু পার হয়ে তার ওপরের দানা থেকে আবার জপ শুরু করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
- মালা ঘোরানোর নিয়ম (The Reverse Turn):
- ১০৮তম দানা জপ শেষ করার পর সুমেরু দানায় এসে থামুন।
- ইষ্টদেবতার বা গুরুর উদ্দেশ্যে মন মনে প্রণাম জানান।
- এরপর জপমালাটিকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিন (অর্থাৎ যে আঙুল বা দিক দিয়ে এতক্ষণ জপ করছিলেন, মালাটিকে সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে আবার ঠিক আগের দানায় ফিরে আসুন)।
- অর্থাৎ, সুমেরুকে স্পর্শ না করেই বা সুমেরু পার না হয়ে উল্টো দিক থেকে আবার জপ শুরু করতে হবে।
- যদি ১ টির বেশি মালা জপ করতে হয়: দ্বিতীয় মালাটি শুরুর সময় সুমেরুর অপর পাশ থেকে আগের নিয়মে আবার বিপরীত দিকে জপ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
২. সুমেরু লঙ্গন না করার আধ্যাত্মিক কারণ (Spiritual Significance)
- গুরু বা ইষ্টের প্রতি সম্মান: সুমেরু দানাটিকে জপমালায় গুরু বা ইষ্টদেবতার আসন হিসেবে গণ্য করা হয়। গুরু বা ঈশ্বরকে নিজের পেছনে ফেলে যাওয়া বা তাঁকে ‘লঙ্গন’ (অতিক্রম বা অবহেলা) করা শাস্ত্রে অপরাধ ও অসম্মানজনক বলে মনে করা হয়।
- শক্তির চক্র রক্ষা (Energy Loop): সাধনার সময় জপমালার মাধ্যমে যে দিব্য শক্তি ও তড়িৎ স্পন্দন তৈরি হয়, সুমেরু হলো তার রিসিভার ও ফোকাস পয়েন্ট। একে লঙ্গন করলে শক্তির চক্র বা সার্কিট ভেঙে যায় এবং সাধকের সংগৃহীত মানস শক্তি বিক্ষিপ্ত হয়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিনম্রতা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক: সুমেরুতে পৌঁছে মালা ঘুরিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো—জীবনের বা সাধনার গতিপথে সমাপ্তি বা চূড়ায় পৌঁছে অহংকার না করে বিনম্রভাবে আবার প্রভুর চরণে ফিরে আসা। এটি সাধকের অহংকার বিনাশ ও আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়।
সাধনার বার্তা: বাহ্যিক এই ছোট নিয়মগুলোই সাধককে দীর্ঘমেয়াদে শৃঙ্খলা ও অন্তরের গভীর একাগ্রতা প্রদান করে। সুমেরুর মর্যাদা রক্ষা করাই নাম সাধনার অন্যতম প্রধান শিষ্টাচার।
[ NB: শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার দর্শনে সত্যযুগ স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠত মালোবাবার নাম করও ১০ বার এবং আবার প্রথম থেকে মালা যপ শুরু করুণ ।]

গুরু শব্দের অর্থ, ব্যুৎপত্তি এবং গুরুকুলের বিশদ আলোচনাভারতীয় বৈদিক, উপনিষদীয় ও আধ্যাত্মিক পরম্পরায় ‘গুরু’ এবং ‘গুরুকুল’ শব্দ দুটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। গুরু কেবল একজন শিক্ষক নন; ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরায় তিনি শিষ্যকে
শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।নিয়ম ১.৪!!সূত্রঃ “চতুর্থুগে সমপদম্ শ্রীশ্রীকাল্কি চতুর্থুগনামং!মালোবাবায়ং প্রদও চতুর্থগনানকীর্ত্তনঃ নিত্যকুরুহং !!অর্থঃ ” শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার প্রদত্ত চতুর্থ যুগনাম গুণকীর্তন এবং সমপদ মহাবেদ সংগীত নিত্যকর্ম্মে করা
সাবর্ণী মন্বন্তর ও সাবর্ণী সত্যযুগ: পুরাণের আলোকে আপনি যে ‘সাবর্ণী মন্বন্তর’ (Sāvarṇi Manvantara) এবং ‘সাবর্ণী সত্যযুগ’-এর কথা বলেছেন, সেখানে দুটি ধারণার পার্থক্য বোঝা জরুরি। পুরাণে অষ্টম মন্বন্তরের কথা স্পষ্টভাবে রয়েছে।
🙏 Vande Malobabayong 🙏 সকল ঈশ্বর সন্তানদের প্রতি বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সকলের জীবন মঙ্গল ও শুভযাত্রার সূচনা হোক এবং সাবর্ণী মনূষ্য ধর্ম্মের প্রারম্ভিক পর্যায়ে সকলকে মালোবাবার দশ মহাযোগ
মিটিং উপস্থিত সাধারণ সদস্যদের অবস্থান নিচে দেওয়া হইল আজ সাবর্ণী কল্পকালের ৫৪৯ তম দিবস ২৭/০৬/০০০২ সা.ম দৈব্য বর্ষের ৬৪ তম দিবস নিত্য বৃহস্পতি বার (সময় রাত্রি ৮ঘটিকা হইতে ১০ ঘটিকা
“স্বয়ংবল গুরুকুল তপস্যার পদোন্নতি প্রাপ্তিতে প্রথম পদক ‘সাদা পদক’ বা ‘রৌপ্য পদক’ তপস্যার মূল দশটি নিয়ম পালন করে প্রাপ্তি করিতে হয় এবং স্বাধ্যায়নে পরীক্ষামূলক বা গবেষণা মূলক ভাবে অনুশীলন করিতে
শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।নিয়ম ১.৩!!সূত্রঃ নিত্য মালোবাবায়ং মহাবেদ ব্রহ্মসূত্রঃ মহামন্ত্রঃ পাঠে একৈশ্বরঃ সত্য ধারণম্ !!অর্থঃ ” নিত্য মালোবাবায়ং মহাবেদ ব্রহ্মসূত্রঃ মহামন্ত্রঃ পাঠ করা এবং শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবাই এক
श्री श्री जनक देवदासी अनुष्का ब्रह्मचारणी तपस्या – 1- तीन दिवस योग साधना (अक्षर ब्रह्म) 2- 7 दिवस योग साधना (शिव योग) शिक्षा- 10th पास श्री श्री जनक देवदासी अनुष्का
শ্রীশ্রীচন্দ্রসৌমানন্দ ব্রহ্মচারী গ্রাম+ডাকঘর : ভীমপুর , থানা – ভীমপুর, জেলা -নাদিয়া , পিন – ৭৪১১৬৭ ভারতবর্ষ শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক। তপস্যা : সপ্ত দিবস শিবযোগ দর্শন

[…] Rules 1.0 Rules 1.1 Rules 1.2 […]