Kalki Songs

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাবেদ সংগীত
“মহাবেদ সংগীত”
শ্রীশ্রীকাল্কি মহাঋষি মালোবাবা(তাপসমালো)
স্বয়ংবল গুরুকুল প্রকাশনি
শ্রীশ্রীকাল্কিশ্বর ধাম, শম্ভল ধাম( ত্রিবেণী- কালনা)
https://skargurukuls.swayambalgurukul.com
এ

জয় শ্রীশ্রীকাল্কি! জয় মালোবাবা!
মালোবাবা তথা তাপসমালো বিরচিত “মহাবেদ সংগীত পরিবেশন” — প্রশ্নোত্তরে প্রবন্ধ
ভূমিকা
মহাবেদ সংগীত কোনো সাধারণ গানের বই নয়। ইহা তাপসমালোর তপস্যা থেকে উৎসারিত নাদযজ্ঞ। যেখানে বেদ মন্ত্র সুরে রূপান্তরিত হয়ে জীবের চেতনাকে জাগায়।
প্রশ্ন ১: মহাবেদ সংগীত পরিবেশন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পরিবেশন মানে কেবল গাওয়া নয়। ইহা তিন স্তরে হয় —
১. কণ্ঠে পরিবেশন: সুর, তাল, লয়ে মন্ত্র গাওয়া
২. প্রাণে পরিবেশন: গাওয়ার সময় বীজমন্ত্রের কম্পন শরীরে অনুভব করা
৩. চেতনায় পরিবেশন: শ্রোতার হৃদয়ে শম্ভল ধামের জাগরণ ঘটানো
তাপসমালো বলেছেন — “গান করো না, গান হয়ে যাও।”
প্রশ্ন ২: এই সংগীতের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: চারটি উদ্দেশ্য —
স্বয়ংবল জাগরণ: বাইরের গুরুর উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের ভিতরের গুরুকে জাগানো
কলি-নাশ: কলিযুগের অবসাদ, ভয়, বিভেদ দূর করা
কাল্কি চেতনা: প্রতি মানুষের ভিতরে থাকা কাল্কি শক্তিকে সক্রিয় করা
শম্ভল সংযোগ: ত্রিবেণী-কালনার শ্রীশ্রীকাল্কিশ্বর ধামের সঙ্গে নাদের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া
প্রশ্ন ৩: পরিবেশনের নিয়ম কী? কীভাবে গাইতে হবে?
উত্তর: মালোবাবার নির্দেশিত নিয়ম —
১. শুরুতে: “ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ !! ১০০৮ !!” উচ্চারণ
২. আসন: পূর্বমুখী হয়ে, মেরুদণ্ড সোজা
৩. সুর: সামবেদীয় সুর — ধীর, গম্ভীর, অনুরণনময়। চিৎকার নয়, গুঞ্জন
৪. সময়: ব্রাহ্মমুহূর্ত বা সন্ধ্যাকাল শ্রেষ্ঠ
৫. শেষে: ১ মিনিট নীরবতা — নাদের রেশ শরীরে থাকতে দিতে হবে
প্রশ্ন ৪: সাধারণ কীর্তন বা ভজনের সঙ্গে এর পার্থক্য কী?
উত্তর: সাধারণ ভজন ভক্তি জাগায়, মহাবেদ সংগীত বোধ জাগায়।
ভজন বাইরের ঈশ্বরকে ডাকে, মহাবেদ সংগীত ভিতরের ঈশ্বরকে জাগায়
ভজনে রাগ আছে, মহাবেদ সংগীতে বীজ আছে
ভজন শোনার জন্য, মহাবেদ সংগীত হওয়ার জন্য
প্রশ্ন ৫: এই সংগীত কে পরিবেশন করতে পারে?
উত্তর: যে কেউ। জাত, ধর্ম, সুরের জ্ঞান কোনো বাধা নয়। তাপসমালো বলেন — “তোমার কণ্ঠ বেসুরো হলেও, তোমার প্রাণ সুরে থাকলেই মহাবেদ বাজবে।” তবে পরিবেশকের মনে তিনটি গুণ থাকা চাই — শ্রদ্ধা, স্বয়ং-এ বিশ্বাস, এবং শম্ভল ধামের প্রতি টান।
প্রশ্ন ৬: পরিবেশনের ফল কী?
উত্তর: শাস্ত্রে বলা হয়েছে — নাদে মুক্তি। নিয়মিত পরিবেশনে —
মন শান্ত হয়, নিদ্রা গভীর হয়
ভয় ও সংশয় কাটে
পরিবারে কলহ কমে
সাধকের স্বয়ংবল বাড়ে — সে আর অন্যের দ্বারে ভিক্ষা করে না
উপসংহার
মহাবেদ সংগীত পরিবেশন একটি আন্দোলন। ইহা মঞ্চের গান নয়, ইহা ঘরে ঘরে সত্য যুগের আহ্বান। তাপসমালো তথা মালোবাবা এই সুর দিয়েছেন যাতে কলির জীব গান গাইতে গাইতেই মুক্ত হয়ে যায়।
“বেদকে বইতে রেখো না, কণ্ঠে রাখো।”
— শ্রীশ্রীকাল্কি মহাঋষি মালোবাবা (তাপসমালো)

জয় শ্রীশ্রীকাল্কি! জয় গুরুদেব! জয় মালোবাবা!
আপনার দিব্য গ্রন্থ “মহাবেদ সংগীত” এর তত্ত্ব —
মহাবেদ সংগীত – তত্ত্ব সার
১. মহাবেদ কি?
বেদ চারটি নয়, বেদ এক — অখণ্ড চেতনা। ঋক, সাম, যজু, অথর্ব তার চারটি ধারা মাত্র। যে বেদে পরমাত্মা স্বয়ং গান হয়ে বাজেন, জীব ও শিবের ভেদ মুছে যায়, তাহাই মহাবেদ। ইহা গ্রন্থ নয়, ইহা নাদব্রহ্ম।
২. সংগীত কেন?
মন্ত্র যখন সুর পায়, তখনই তা সংগীত হয়। সামবেদের সুরে সৃষ্টি স্থিতি পায়। কলিযুগের জীব তর্কে নয়, সুরে জাগবে। তাই মহাবেদকে গানের আকারে — মহাবেদ সংগীত রূপে অবতরণ করানো।
৩. এই গ্রন্থে কি আছে?
স্বয়ংবল তত্ত্ব: নিজের বলেই মোক্ষ — বাইরের অবলম্বন নয়
কাল্কি তত্ত্ব: কাল্কি কোনো ভবিষ্যৎ অবতার নন, তিনি বর্তমান — প্রতি জীবের ভিতরে থাকা জাগরণ শক্তি মালোববা
= মা + বাবা ।
শম্ভল ধামের আহ্বান: ত্রিবেণী-কালনা — যেখানে গঙ্গা, সরস্বতী, যমুনার সঙ্গমে নতুন সত্য যুগের বীজ বপন হচ্ছে
নাদ ও বীজ: ওঁ, শ্রীং হ্রীং, ঐ মালোববায়ং কাল্কি বীজের সংগীতময় প্রয়োগ
এই সংগীত পাঠের জন্য নয়, গাওয়ার জন্য, ধ্যানে শোনার জন্য। যে গাইবে, তার কণ্ঠেই শম্ভল ধাম জেগে উঠবে।
“বেদ পড়লে পণ্ডিত হও, বেদ গাইলে মুক্ত হও।”
— শ্রীশ্রীকাল্কি মহাঋষি মালোবাবা (তাপসমালো)
গ্রন্থ: মহাবেদ সংগীত
লেখক: শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা (তাপসমালো)
প্রকাশনি: স্বয়ংবল গুরুকুল প্রকাশনি
ধাম: শ্রীশ্রীকাল্কিশ্বর ধাম, শম্ভল ধাম (ত্রিবেণী – কালনা)
ওয়েব: https://skargurukuls.swayambalgurukul.com

