শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।

নিয়ম ১.০ !!

অথ্ মালোভক্তঃ নিত্যং মালোবাবায়ং শতসহস্রার নামং মন্ত্রঃ যপম্ !!

“যাহারা শ্রীশ্রীকাল্কি মালোতত্ত্বের ভক্ত হয়েছেন তাহাদের নিত্য একলক্ষ্য মালোবাবার নাম যপ বা মন্ত্রঃ যপ কর্ত্তব্য ।”

ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ !!১০০৮!!



আরও কিছু কথা জানতে পারেন Click here…

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।
নিয়ম ১.০ !!
সূত্রঃ অথ্ মালোভক্তঃ নিত্যং মালোবাবায়ং শতসহস্রার নামং মন্ত্রঃ যপম্ !!
অর্থঃ “যাহারা শ্রীশ্রীকাল্কি মালো তত্ত্বের ভক্ত হয়েছেন তাহাদের নিত্য একলখ্য মালোবাবার নাম যপ বা মন্ত্রঃ যপ কওব্য ।”
ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ !!১০০৮!!

শ্বাস্ত্র নামঃ নিয়ম ১.০ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!
লেখকঃ শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা
প্রকাশকঃ স্বয়ংবল গুরুকুল প্রকাশনি
স্থানঃ শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম, শম্ভল ধাম( ত্রিবেণী- কালনা)।
সত্যানন্দপুর, শেরপুর উত্তরপাড়া, নয়াসরাই, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ ৭১২৫১৩

আপনি কী এই নিয়ম মানছেন?

হ্যাঁ | না
​নিয়ম ১.০ (মালোসংহিতা) ​
সূত্র: অথ্ মালোভক্তঃ নিত্যং মালোবাবায়ং শতসহস্রার নামং মন্ত্রঃ যপম্ !!
Live on YouTube down below...
নিয়ম ১.০ স

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার মালোসংহিতা-র প্রথম নিয়মের সূত্রের মূল ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য নিচে দেওয়া হলো:

১. শব্দার্থ ও সূত্রের ব্যবচ্ছেদ

  • অথ্: মঙ্গলসূচক প্রারম্ভিক শব্দ (অর্থাৎ, এখন থেকে শুরু হচ্ছে)।
  • মালোভক্তঃ: যিনি শ্রীশ্রীকাল্কি মালো তত্ত্ব ও মালোবাবার পথ গ্রহণ করেছেন বা অনুগামী হয়েছেন।
  • নিত্যং: প্রতিদিন বা প্রতিদিনের নির্দিষ্ট রুটিন হিসেবে।
  • শতসহস্রার নামং: শত-সহস্র অর্থাৎ ১০০ \times ১,০০০ = ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) বার নাম।
  • মন্ত্রঃ যপম্: মন্ত্র মন দিয়ে জপ করা বা পুনরাবৃত্তি করা।

২. মূল তাৎপর্য ও বার্তা

  • মনঃসংযোগ ও একাগ্রতা: জপ হলো মনকে একমুখী করার একটি প্রক্রিয়া। এক লক্ষ নাম জপের নির্দেশ ভক্তিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, সারাদিন বা নির্দিষ্ট সময়ে জপের মাধ্যমে চিত্ত শুদ্ধি এবং পরমাত্মার প্রতি একাগ্রতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়।
  • নিত্য পালনের গুরুত্ব (নিয়মিত শৃঙ্খলা): সূত্রে “নিত্যং” শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বোঝায় যে জপ কোনো বিশেষ উৎসব বা দিনে সীমাবদ্ধ নয়; ভক্তের দৈনন্দিন জীবনের একটি আবশ্যক অংশ বা আত্মশুদ্ধির অভ্যাস হিসেবে এটি পালন করা উচিত।
  • নাম ও মন্ত্রের শক্তি: ভারতীয় আধ্যাত্মিক ধারায় “ওঁ” হলো সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মের বাচক ধ্বনি। “ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ” মন্ত্রটি জপের মাধ্যমে ভক্ত ও গুরু বা পরম তত্ত্বের মধ্যে আত্মিক সংযোগ স্থাপন করা এবং সেই তরঙ্গকে নিজের চেতনায় ধারণ করাই এই সূত্রের মূল উদ্দেশ্য।

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার মালোসংহিতা-র প্রথম নিয়মের সূত্রের মূল ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য নিচে দেওয়া হলো:

১. শব্দার্থ ও সূত্রের ব্যবচ্ছেদ

  • অথ্: মঙ্গলসূচক প্রারম্ভিক শব্দ (অর্থাৎ, এখন থেকে শুরু হচ্ছে)।
  • মালোভক্তঃ: যিনি শ্রীশ্রীকাল্কি মালো তত্ত্ব ও মালোবাবার পথ গ্রহণ করেছেন বা অনুগামী হয়েছেন।
  • নিত্যং: প্রতিদিন বা প্রতিদিনের নির্দিষ্ট রুটিন হিসেবে।
  • শতসহস্রার নামং: শত-সহস্র অর্থাৎ ১০০ \times ১,০০০ = ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) বার নাম।
  • মন্ত্রঃ যপম্: মন্ত্র মন দিয়ে জপ করা বা পুনরাবৃত্তি করা।

২. মূল তাৎপর্য ও বার্তা

  • মনঃসংযোগ ও একাগ্রতা: জপ হলো মনকে একমুখী করার একটি প্রক্রিয়া। এক লক্ষ নাম জপের নির্দেশ ভক্তিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, সারাদিন বা নির্দিষ্ট সময়ে জপের মাধ্যমে চিত্ত শুদ্ধি এবং পরমাত্মার প্রতি একাগ্রতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়।
  • নিত্য পালনের গুরুত্ব (নিয়মিত শৃঙ্খলা): সূত্রে “নিত্যং” শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বোঝায় যে জপ কোনো বিশেষ উৎসব বা দিনে সীমাবদ্ধ নয়; ভক্তের দৈনন্দিন জীবনের একটি আবশ্যক অংশ বা আত্মশুদ্ধির অভ্যাস হিসেবে এটি পালন করা উচিত।
  • নাম ও মন্ত্রের শক্তি: ভারতীয় আধ্যাত্মিক ধারায় “ওঁ” হলো সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মের বাচক ধ্বনি। “ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ” মন্ত্রটি জপের মাধ্যমে ভক্ত ও গুরু বা পরম তত্ত্বের মধ্যে আত্মিক সংযোগ স্থাপন করা এবং সেই তরঙ্গকে নিজের চেতনায় ধারণ করাই এই সূত্রের মূল উদ্দেশ্য।

শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার নাম জপের সঠিক নিয়ম ও আসন পদ্ধতি কী?

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার মতাদর্শ ও মালোসংহিতা-র নির্দেশ অনুসারে প্রতিদিন “ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ” মন্ত্র জপের জন্য সনাতন আধ্যাত্মিক শাস্ত্রসম্মত সঠিক নিয়ম ও আসন পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো:

১. উপযুক্ত আসন ও অবস্থান পদ্ধতি

  • আসনের নির্বাচন: মাটিতে খালি অবস্থায় বসে জপ করা নিষেধ। কুশ (কুশাসন), পশম (কম্বল) বা সুতির পরিষ্কার বস্ত্রের আসন ব্যবহার করা উত্তম।
  • বসার ভঙ্গি: মেরুদণ্ড, ঘাড় ও মাথা সোজা রেখে সুখাসন, পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসতে হবে। শরীর শিথিল থাকবে কিন্তু ঝুঁকে পড়া চলবে না।
  • দিক নির্দেশ: জপ করার সময় পূর্ব অথবা উত্তর দিকে মুখ করে বসা সবচেয়ে ফলদায়ক ও শুভ বলে বিবেচিত হয়।

২. নাম জপের সঠিক নিয়মাবলী

  • সময় ও পরিবেশ: প্রাতঃকালে (ব্রাহ্মমুহূর্তে) অথবা সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশে শুচি ও পরিষ্কার বস্ত্রে জপে বসা উচিত।
  • জপমালার ব্যবহার (যদি মালায় জপ করেন):
    • ডান হাতের মধ্যমা আঙুলের ওপর মালা রেখে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ (বুড়ো আঙুল) দিয়ে দানা বা গুটি নিজের দিকে টানতে হয়।
    • তর্জনী (শাহাদাত আঙুল) অহংকারের প্রতীক, তাই জপের সময় তর্জনী যেন মালায় বা দানায় স্পর্শ না করে।
    • জপমালার ‘মেরু’ বা ‘গুরু গুটি’ কখনো অতিক্রম করতে নেই; ১০৮ বার জপ শেষে মেরু স্পর্শ করে মালা ঘুরিয়ে বিপরীত দিক থেকে পুনরায় জপ শুরু করতে হয়।
  • এক লক্ষ (শতসহস্র) জপের কৌশল:
    • ১,০০,০০৮ বার জপ সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে নিন (যেমন: প্রাতঃকাল, মধ্যাহ্ন ও সন্ধ্যায় বা সুবিধাজনক সময়ে)।
    • গণনা ঠিক রাখতে ‘জপ ঝুলি’ (গৌমুখী ব্যাগ), কাউন্টার দানা বা লিখিত ডায়েরি ব্যবহার করতে পারেন।

৩. মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি

  • মনঃসংযোগ: জপ চলাকালীন উচ্চারণ যেন স্পষ্ট হয় এবং মন যেন কেবল ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ মন্ত্রের তরঙ্গে নিবদ্ধ থাকে।
  • মানসিক জপ: প্রারম্ভে মৃদু স্বরে বা ঠোঁট নেড়ে জপ করলেও ধীরে ধীরে মানসিক জপ (মনে মনে ধ্যান সহকারে জপ) অনুশীলন করা উত্তম, কারণ শাস্ত্রে মানসিক জপকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।

কীভাবে জপের মালা ধরতে হয় এবং ১০৮ দানার নিয়ম জপ করতে হয় এই ভিডিওটিতে জপের সময় আঙুলের সঠিক ব্যবহার, তর্জনী এড়িয়ে চলার নিয়ম এবং জপমালার সঠিক বিধি বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা আপনার অনুশীলনে সাহায্য করবে।


প্রতিদিন এক লক্ষ নাম জপ করার জন্য সময় কীভাবে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে?

প্রতিদিন ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) নাম বা মন্ত্র জপ করা একটি অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের আধ্যাত্মিক সাধনা। একাগ্রতা এবং জপের গতির ওপর ভিত্তি করে ১ মালা (১০৮ বার) জপ করতে সাধারণত ১.৫ থেকে ২ মিনিট সময় লাগে। সেই হিসাবে ১ লক্ষ জপ (প্রায় ৯২৫ মালা) সম্পন্ন করতে দিনে মোট ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

এই বিপুল পরিমাণ জপ একদিনে করার জন্য সময়কে প্রধানত ৪টি পর্বে (বা প্রহরে) ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে:

১. দৈনিক সময় বিভাজনের প্রস্তাবিত সময়সূচী

পর্ব / প্রহরসময়কালআনুমানিক সময়জপের পরিমাণ (মালা / সংখ্যা)
১. ব্রাহ্মমুহূর্ত ও প্রাতঃকালভোর ৪:০০ – সকাল ৮:০০৪ ঘণ্টা~২৫০ মালা (প্রায় ২৭,০০০ জপ)
২. পূর্বাহ্ণ ও মধ্যাহ্নসকাল ৯:৩০ – দুপুর ১:৩০৪ ঘণ্টা~২৫০ মালা (প্রায় ২৭,০০০ জপ)
৩. অপরাহ্ণ ও সায়াহ্নবিকাল ৩:৩০ – সন্ধ্যা ৬:৩০৩ ঘণ্টা~২০০ মালা (প্রায় ২১,৬০০ জপ)
৪. রাত্রিকালরাত ৭:৩০ – রাত ১০:৩০৩ ঘণ্টা~২০০ মালা (প্রায় ২৪,৪০০ জপ)

২. সফলভাবে জপ সম্পন্ন করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  1. উপসংহার ও মানসিক জপ: কেবল হাতে মালা ঘুরিয়ে এক লক্ষ পূর্ণ করা কঠিন হতে পারে। তাই আসনে বসে মায়ায় জপের পাশাপাশি হাঁটাচলা বা বিশ্রামের সময় মানসিক জপ (মনে মনে জপ) গণনায় যুক্ত করতে পারেন।
  2. একাসনে না বসা: টানা অনেক ঘণ্টা বসে থাকলে শরীরে ক্লান্তি ও অলসতা আসতে পারে। প্রতি ১-২ ঘণ্টা জপের পর ৫-১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বিরতি বা হালকা স্থান পরিবর্তন শরীরকে সতেজ রাখে।
  3. হালকা ও সাত্ত্বিক আহার: অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে ঘুম ও আলস্য আসে, যা জপের গতি কমিয়ে দেয়। তাই পরিমিত ও হালকা খাবার গ্রহণ করা জরুরি।
  4. প্রযুক্তির সাহায্য: গণনার সুবিধার জন্য আঙুলে পরার ডিজিটাল জপ কাউন্টার (Tally Counter) বা জপ ঝুলি ব্যবহার করতে পারেন।

মানসিক জপ এবং বাচিক জপের মধ্যে পার্থক্য ও কোনটা বেশি ফলদায়ক?

ভারতীয় আধ্যাত্মিক ও যোগশাস্ত্রে মন্ত্র জপের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। জপের ধ্বনি, প্রক্রিয়া ও উচ্চারণের ওপর ভিত্তি করে জপকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা হয়—বাচিক (বা বৈখরী), উপ অংশু (মৃদু) এবং মানসিক।

বাচিক জপ ও মানসিক জপের মধ্যে মূল পার্থক্য এবং সাধনায় কোনটি বেশি ফলদায়ক, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. বাচিক জপ ও মানসিক জপের মূল পার্থক্য

বৈশিষ্ট্যবাচিক জপ (Vachika Japa)মানসিক জপ (Manasika Japa)
উচ্চারণ পদ্ধতিস্পষ্ট শব্দ ও স্বরে মুখে উচ্চারণ করে জপ করা হয়। পাশে থাকা ব্যক্তিও শুনতে পায়।কোনো শব্দ বা ঠোঁট না নেড়ে সম্পূর্ণ মনে মনে জপ করা হয়।
শরীর ও ইন্দ্রিয়ের ভূমিকামুখ, জিভ ও কণ্ঠনালীর প্রত্যক্ষ ব্যবহার হয়।কেবল মন, বুদ্ধি ও চেতনার ব্যবহার হয়।
মনঃসংযোগের ধরনশুরুর দিকে মনকে স্থির রাখতে সহজ, কারণ উচ্চারিত ধ্বনি মনকে বাইরে যেতে দেয় না।গভীর একাগ্রতার প্রয়োজন হয়; মন চঞ্চল থাকলে সহজে অন্য চিন্তা চলে আসে।
স্থান ও কালের বাধ্যবাধকতাসর্বস্থানে (যেমন- অপবিত্র স্থান বা লোকালয়ে) উচ্চস্বরে করা সম্ভব নয়।যেকোনো স্থানে, যেকোনো অবস্থায় (শৌচ, অশুচি বা ভ্রমণের সময়ও) করা যায়।

২. কোনটি বেশি ফলদায়ক?

শাস্ত্রীয় অনুশাসন (যেমন—মনুসংহিতা, জপোপনিষদ ও গুরুগীতা) অনুযায়ী, মানসিক জপই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও ফলদায়ক।

উচ্চতর ফলদায়কতার ক্রমটি শাস্ত্রে এভাবে বর্ণিত হয়েছে:

  • বাচিক জপ: এটি সাধারণ জপ, যা প্রারম্ভিক সাধকদের জন্য উপযোগী।
  • উপাংশু জপ (উপ-অংশু): কেবল নিজের কান শুনতে পায় বা হালকা ঠোঁট নেড়ে জপ করা—এটি বাচিক জপের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ফলদায়ক।
  • মানসিক জপ: মনে মনে ঈশ্বরের নাম বা মন্ত্র ধ্যান করা—এটি বাচিক জপের চেয়ে ১,০০০ থেকে ১০,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী ও ফলদায়ক বলে গণ্য করা হয়।

৩. কেন মানসিক জপকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়?

  1. চিত্তশুদ্ধি ও পরম শান্তভাব: মানসিক জপে বহির্জগতের কোলাহল বন্ধ হয়ে মন সরাসরি মন্ত্রের তরঙ্গ বা পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়। এটি সাধককে দ্রুত ধ্যানস্থ (Meditative State) হতে সাহায্য করে।
  2. অজপা জপ (স্বভাবিক সাধনা): প্রতিদিন ১ লক্ষের মতো বিশাল লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বাচিক জপে গলায় ক্লান্তি আসতে পারে। কিন্তু মানসিক জপে কোনো শারীরিক ক্লান্তি আসে না এবং তা শ্বাসের সঙ্গে মিলে অবচেতন মনে প্রবিষ্ট হয়।

সাধনা শুরুর সহজ উপায়: যারা নতুন জপ শুরু করছেন, তাঁদের সরাসরি মানসিক জপে মন ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তাই প্রথমে বাচিক জপ দিয়ে শুরু করে মন স্থির হলে উপাংশু, এবং পরিশেষে গভীর একাগ্রতায় মানসিক জপে উন্নীত হওয়াই উত্তম ও স্বাভাবিক পদ্ধতি।


জপ করার সময় মন ঘুরে বেড়ালে বা চঞ্চল হলে কীভাবে একাগ্রতা ফিরিয়ে আনা যায়?

জপের সময় মন চঞ্চল হয়ে নানা চিন্তায় ভেসে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। মনকে জোর করে আটকানোর চেষ্টা না করে সঠিক কৌশলে ধীরে ধীরে আবার মন্ত্রে ফিরিয়ে আনাই সাধনার মূল কৌশল।

জপের সময় একাগ্রতা ধরে রাখা এবং মন ঘুরে গেলে তা ফিরিয়ে আনার কার্যকর পদ্ধতিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. তাত্ক্ষণিক মন ফিরিয়ে আনার পদ্ধতি (যখন মন भटकাবে)

  • জপের পদ্ধতি পরিবর্তন (বাচিক বা উপাংশু জপে ফেরা): মানসিক জপ করার সময় মন বেশি ঘুরে বেড়ালে সঙ্গে সঙ্গে কৌশল বদলে ফেলুন। কিছুক্ষণের জন্য স্পষ্ট উচ্চারণে বাচিক জপ (মুখে শব্দ করে) বা উপাংশু জপ (হালকা ঠোঁট নেড়ে) করুন। নিজের উচ্চারিত ধ্বনি নিজের কানে গেলে মন দ্রুত অন্য চিন্তা ছেড়ে মন্ত্রে ফিরে আসে।
  • সাক্ষীভাবে মনকে দেখা: মন অন্য চিন্তায় চলে গেছে টের পেলে নিজেকে দোষ দেবেন না বা বিরক্ত হবেন না। শান্তভাবে চিন্তাটিকে দেখুন এবং ধীরেসুস্থে মনকে পুনরায় ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ মন্ত্রের তরঙ্গে ফিরিয়ে আনুন।
  • শব্দ ও অর্থের ওপর মনোযোগ: কেবল যান্ত্রিকভাবে মন্ত্র না বলে প্রতিটি অক্ষরের ধ্বনি এবং তার ভাব বা পরমাত্মার রূপ মনে মনে কল্পনা করার চেষ্টা করুন।

২. একাগ্রতা বাড়াতে প্রাক-জপ প্রস্তুতি

  • প্রাণায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম: জপে বসার ঠিক আগে ২ থেকে ৫ মিনিট ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করুন (যেমন—অনুলোম-বিলোম বা দীর্ঘ শ্বাস)। এটি মস্তিষ্কের চঞ্চল তরঙ্গকে শান্ত করে একাগ্রতার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
  • চোখের দৃষ্টি বা ধ্যানের কেন্দ্র স্থির করা: চোখ সম্পূর্ণ বন্ধ করলে যদি ঘুম আসে বা মনে নানা দৃশ্য ভেসে ওঠে, তবে চোখ হালকা অর্ধ-নিমীলিত (অর্ধেক খোলা) রেখে নাকের ডগায় বা দুই ভ্রূর মাঝে (আজ্ঞা চক্রে) দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে পারেন।
  • নির্দিষ্ট স্থান ও সময় বজায় রাখা: প্রতিদিন একই স্থানে এবং একই সময়ে জপে বসলে মস্তিষ্কে একটি মনস্তাত্ত্বিক কন্ডিশনিং তৈরি হয়, ফলে সেখানে বসামাত্রই মন দ্রুত শান্ত হতে শুরু করে।

৩. দীর্ঘমেয়াদী সাধনায় চঞ্চলতা দূর করার উপায়

  • ছোট লক্ষ্য থেকে শুরু করা: ১ লক্ষ জপের বিশাল লক্ষ্যের দিকে একবারে না তাকিয়ে ছোট ছোট ধাপে (যেমন: “আগামী ১৫ মিনিট বা ১০ মালা কেবল পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে করব”) লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
  • অতিরিক্ত শারীরিক ক্লান্তি পরিহার: শরীর অত্যন্ত ক্লান্ত বা পেটে ভারী খাবার থাকলে জপে মন বসে না; বরং ঘুম ও চঞ্চলতা বাড়ে। জপে বসার আগে মুখ-হাত ধুয়ে নিজেকে সতেজ করে নেওয়া ভালো।

অজপা জপ কী এবং শ্বাসের সাথে মন্ত্র জপ করার নিয়ম কী?

অজপা জপ হলো সাধনার এমন একটি উচ্চাঙ্গের অবস্থা, যেখানে কোনো মালা গণনা বা ইচ্ছাকৃত মুখে উচ্চারণ ছাড়াই শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক ছন্দের সাথে মন্ত্রের ধ্যা্ন স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলতে থাকে।

১. অজপা জপ কী?

সাধারণ জপে সাধককে সচেতনভাবে চেষ্টা করে মন্ত্র বা নাম উচ্চারণ করতে হয়। কিন্তু অজপা জপ (Ajapa Japa)-এ জপটি প্রচেষ্টাহীন ও স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে।

আমরা দিনে গড়ে প্রায় ২১,৬০০ বার শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। যখন সাধনার গভীরতায় পৌঁছানোর পর প্রতি শ্বাসের আদান-প্রদানের সাথে মন স্বতঃস্ফূর্তভাবে গুরুর নাম বা মন্ত্র স্মরণ করতে থাকে, তখনই তাকে ‘অজপা জপ’ বলা হয়। এটি কোনো কৃত্রিম জপ নয়, এটি জীবনের প্রতিটি শ্বাসের সাথে যুক্ত এক জীবন্ত সাধনা।

২. শ্বাসের সাথে মন্ত্র জপ করার সঠিক নিয়ম

শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার “ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ” মন্ত্রটি বা যেকোনো মূল মন্ত্রকে শ্বাসের সাথে যুক্ত করার সহজ ও শাস্ত্রসম্মত পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

ক) প্রাথমিক প্রস্তুতি

  • মেরুদণ্ড সোজা রেখে যেকোনো আরামদায়ক আসনে বসুন।
  • প্রথমে কয়েকবার স্বাভাবিক দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে মনকে শান্ত করুন।

খ) শ্বাস ও মন্ত্রের মিলন (প্রাণ-সংযম)

মন্ত্রকে শ্বাসের দুটি অংশের সাথে ভাগ করে সমন্বয় করতে হয়:

  1. শ্বাস গ্রহণের সময় (Inhalation):
    • নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস ভেতরে নেওয়ার সময় মনে মনে মন্ত্রের প্রথম অংশ ধ্যান করুন।
    • উদাহরণস্বরূপ: শ্বাস নেওয়ার সময় ধীর গতিতে অনুভব করুন—“ওঁ মালোবাবায়ং…”
  2. শ্বাস ত্যাগের সময় (Exhalation):
    • ধীরে ধীরে শ্বাস বাইরে ছাড়ার সময় মন্ত্রের বাকি অংশ মনে মনে উচ্চারণ করুন।
    • উদাহরণস্বরূপ: শ্বাস ছাড়ার সময় অনুভব করুন—“…নমঃ”

(অথবা সাধকের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পুরো মন্ত্রটি শ্বাস নেওয়ার সময় একবার এবং শ্বাস ছাড়ার সময় একবারও মানসিক ধ্যান করা যায়।)

গ) একাগ্রতা ও চেতনার স্থান

  • জপের সময় মনোযোগ কেবল নাসিকার ডগায় শ্বাসের স্পর্শের ওপর এবং হৃদয়ে (অনাহত চক্রে) গুরুভাব বা পরম তত্ত্বের ওপর নিবদ্ধ রাখবেন।
  • শ্বাস যেন জোর করে দ্রুত বা ধীর করা না হয়; শ্বাস স্বাভাবিক গতিতেই চলবে, কেবল সচেতনতা বা মন যুক্ত থাকবে শ্বাসের গতিপথের সাথে।

৩. শ্বাসের সাথে জপ করার উপকারিতা

  • মন ও প্রাণের স্থায়ী স্থিরতা: প্রাণায়াম এবং জপ একসাথে ঘটে বলে চঞ্চল মন অতি দ্রুত শান্ত ও ধ্যানস্থ হয়।
  • সারাদিন জপ অব্যাহত রাখার উপায়: এই অভ্যাসে দক্ষ হলে হাঁটাচলা, কাজ বা বিশ্রামের সময়ও অজপা জপের ধারা ভেতরে অবিরত বইতে থাকে, যা দিনে ১ লক্ষ নাম জপের বিশাল লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক।

জপে বসার পর ঘুম বা আলস্য আসলে তা দূর করার সঠিক উপায় কী?

জপ বা ধ্যানের আসনে বসার পর অলসতা, তন্দ্রা বা ঘুম আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি মানসিক ও শারীরিক বাধা। যোগশাস্ত্রে একে ‘লয়’ বা চিত্তের নিষ্ক্রিয় অবস্থা বলা হয়।

জপের সময় ঘুম ও আলস্য দূর করার কার্যকারী ও শাস্ত্রসম্মত উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. তাত্ক্ষণিক আলস্য দূর করার কৌশল

  • পদ্ধতি পরিবর্তন (উচ্চস্বরে জপ): ঘুম আসামাত্র চোখ খুলে পরিষ্কার ও স্পষ্ট উচ্চারণে বাচিক জপ (শব্দ করে জপ) শুরু করুন। প্রয়োজনে জপের সুর বা তাল সামান্য বদলে নিন। উচ্চারিত ধ্বনি মস্তিষ্কের স্নায়ুকে জাগ্রত করে।
  • স্থান পরিবর্তন ও হাঁটাচলা (চংক্রমণ জপ): একাসনে বসে তন্দ্রা আসলে উঠে দাঁড়ান। ঘরের ভেতরেই ধীরগতিতে পায়চারি করতে করতে (চংক্রমণ) হাত দিয়ে মালা জপ বা মানসিক জপ চালিয়ে যান।
  • ঠান্ডা জলের স্পর্শ: মুখ, চোখ ও ঘাড় ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। বিশেষ করে হাত ও পায়ের পাতা জলে ভিজিয়ে নিলে শরীরে দ্রুত সতেজতা ফিরে আসে।
  • প্রাণায়াম ও দীর্ঘ শ্বাস: জপ থামিয়ে ১-২ মিনিটের জন্য দ্রুত ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম বা গভীরভাবে ৩-৪ বার শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করুন। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং ঘুম কেটে যায়।

২. শারীরিক ও পরিবেশগত প্রস্তুতি

  • আসনের ভঙ্গি সংশোধন: সোজা হয়ে বসুন। মেরুদণ্ড, ঘাড় ও মাথা যেন এক রেখায় থাকে। হেলে বা ঝুঁকে বসলে শরীরে অলসতা আসে। দেয়ালে হেলান দিয়ে জপে বসা এড়িয়ে চলুন।
  • আহারের নিয়ন্ত্রণ (সাত্ত্বিক ও পরিমিত খাদ্য): অতিরিক্ত পেট ভরে বা ভারী খাবার (বিশেষ করে প্রচুর শর্করা/ভাত বা তৈলাক্ত খাবার) খেয়ে জপে বসলে আলস্য আসা স্বাভাবিক। হালকা ও সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণ করুন এবং খাবার খাওয়ার অন্তত ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা পর জপে বসুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক ঘুম (৬–৭ ঘণ্টা) নিশ্চিত করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চেতনায় একাগ্রতা ধরে রাখা সম্ভব নয়।
  • চোখের অবস্থান: চোখ পুরোপুরি বন্ধ করলে অনেকের মনের ভেতর অন্ধকারের সৃষ্টি হয়, যা ঘুমের আমেজ আনে। সেক্ষেত্রে চোখ পুরোপুরি বন্ধ না করে হালকা খোলা (অর্ধ-নিমীলিত) রেখে নাকের ডগায় দৃষ্টিনিক্ষেপ করুন।

৩. মানসিক মনোভাব

  • উদ্যম ও সংকল্প: জপে বসার আগে ২ মিনিট নিজের আরাধ্য দেব বা গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাধনার গুরুত্ব স্মরণ করুন। একটি নির্দিষ্ট সময়ের সংকল্প (“আমি আগামী ৩০ মিনিট সম্পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় জপ করব”) মনকে সচেতন রাখতে সাহায্য করে।

মালোসংহিতা গ্রন্থের অন্যান্য নির্দেশাবলী ও নিয়মকানুনগুলো বলুন।

শ্রীশ্রীকাল্কি মহর্ষি মালোবাবা রচিত মালোসংহিতা গ্রন্থে সাধক ও ভক্তদের আত্মশুদ্ধি, নীতিবোধ এবং গুরুধর্ম পালনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অনুশাসন ও নিয়মকানুন নির্দেশ করা হয়েছে।

নিয়ম ১.০-এর (নিত্য শতসহস্র নাম জপ) পাশাপাশি এই গ্রন্থে উল্লেখ থাকা প্রধান সামাজিক, নৈতিক ও সাধনামূলক অন্যান্য নির্দেশাবলী নিচে তুলে ধরা হলো:

১. কায়মনোবাক্যে অহিংসা ও ভক্তি (আচরণবিধি)

  • গুরুতত্ত্ব শ্রদ্ধা: শ্রীশ্রীকাল্কি মালো তত্ত্বের প্রতি পূর্ণ নিষ্ঠা এবং গুরুর বাক্যকে প্রমানের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা।
  • সত্যভাষণ ও সরলতা: বাক্যে এবং চিন্তায় সত্য বজায় রাখা। ছলনাহীন জীবনযাপন সাধনার অন্যতম প্রধান শর্ত।
  • পরনিন্দা ও হিংসা বর্জন: অন্যের সমালোচনা, হিংসা বা অকারণ সংঘাত থেকে দূরে থেকে নিজের আত্মশুদ্ধিতে মন দেওয়া।

২. আহার ও শুচিতা নির্দেশ (খাদ্যাভ্যাস)

  • সাত্ত্বিক আহার: দেহ ও মনকে পবিত্র রাখতে এবং জপ-ধ্যানে একাগ্রতা বাড়াতে সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
  • শুচিতা পালন: বাহ্যিক দেহশুদ্ধির (স্নান ও পরিষ্কার বস্ত্র) পাশাপাশি মনের ভাবশুদ্ধি রক্ষা করা।

৩. সংহিতাভিত্তিক অন্যান্য সাধনা নিয়ম

  • সেবা ও দান: অসহায়, পীড়িত ও গুরুকুলের সেবায় আত্মনিয়োগ করা পরম ধর্মের অঙ্গ।
  • নিয়মিত সমবেত জপ বা প্রার্থনা: ব্যক্তিগত জপের পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ তিথিতে বা আশ্রমে/ধামে উপস্থিত হয়ে ভক্তদের একত্রিত হয়ে নামসংকীর্তন বা আলোচনা করা।
  • সংযম ও নিয়মবদ্ধতা: দৈনন্দিন জীবনযাপনে সময়ানুবর্তিতা এবং ইন্দ্রিয় সংযম বজায় রাখা, যাতে সাধনমার্গ থেকে মন বিচ্যুত না হয়।

(উল্লেখ্য: মালোসংহিতার প্রতিটি নিয়ম ও সূত্রের বিশদ ব্যাখ্যা ও নির্দেশাবলী শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম/স্বয়ংবল গুরুকুল প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মূল গ্রন্থ থেকে সরাসরি সংগ্রহ বা অনুশীলন করা শ্রেয়।)


শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম এবং শম্ভল ধামের স্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে বিশদে বলুন।

শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম এবং পুরাণপ্রসিদ্ধ শম্ভল ধাম—এই দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও তাৎপর্যবহ আধ্যাত্মিক স্থান। নিচে শাস্ত্রীয় পটভূমি এবং ভৌগোলিক অবস্থানসহ এদের বিশদ বিবরণ আলোচনা করা হলো:

১. শাস্ত্রীয় শম্ভল ধাম (পৌরাণিক ইতিহাস ও পটভূমি)

সনাতন শাস্ত্র (বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ, কল্কি পুরাণ এবং মহাভারত)-এ শম্ভল গ্রাম বা শম্ভল ধাম-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে:

  • উৎপত্তি ও অর্থ: ‘শম্ভল’ শব্দের অর্থ হলো শান্তির আলয় বা শুভ স্থান।
  • কল্কি অবতারের জন্মস্থান: পুরাণ অনুযায়ী, যখন কালীয়ুগের পাপ ও অন্যায় চরম সীমায় পৌঁছাবে, তখন ভগবান বিষ্ণু তাঁর দশম ও চূড়ান্ত অবতার শ্রীশ্রী কাল্কি রূপে শম্ভল গ্রামে জন্মগ্রহণ করবেন।
  • পারিবারিক পরিচয়: শাস্ত্রের বর্ণনানুসারে, শম্ভল ধামের প্রধান ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণ বসুদেব/বিষ্ণুযশা এবং তাঁর পত্নী সুমতি-র গৃহে ভগবান কাল্কির আবির্ভাব ঘটবে।
  • ভূমিকা: শম্ভল ধাম থেকেই শ্রী কাল্কি অধর্মের নাশ করে পুনরায় ‘সত্যযুগ’ বা ধৰ্মসংস্থাপনের সূচনা করবেন।

২. শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম (ভৌগোলিক স্থান ও বর্তমান কেন্দ্র)

মালোসংহিতা গ্রন্থে নির্দেশিত এবং শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা পরিচালিত কেন্দ্রটির সুনির্দিষ্ট স্থান ও অবস্থানগত বিবরণ নিম্নরূপ:

  • পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা:শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম, শম্ভল ধাম (ত্রিবেণী-কালনা অঞ্চল) সত্যানন্দপুর, শেরপুর উত্তরপাড়া, নয়াসরাই, জেলা: হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত – ৭১২৫১৩
  • স্থানগত ঐতিহাসিক তাৎপর্য (ত্রিবেণী-কালনা সংযোগস্থল):
    • নয়াসরাই ও ত্রিবেণী অঞ্চল: হুগলী জেলার ত্রিবেণী প্রাচীনকাল থেকেই গঙ্গাসাগর সঙ্গমের ন্যায় একটি পরম পবিত্র ‘মুক্তবেণী’ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত, যেখানে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর মেলবন্ধন ঘটেছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
    • কালনা সংযোগ: এই স্থানটি হুগলী এবং পূর্ব বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী কালনা (অম্বিকা কালনা) শহরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
    • স্বয়ংবল গুরুকুল প্রকাশনী: এই ধামেই অবস্থিত “স্বয়ংবল গুরুকুল”, যেখান থেকে মালোসংহিতাসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও সাধনভিত্তিক গ্রন্থাবলী প্রকাশিত হয়।

৩. আধ্যাত্মিক সমন্বয় ও তাৎপর্য

ভক্তিমূলক দর্শনে এই স্থানটিকে বৈদিক/পৌরাণিক “শম্ভল তত্ত্ব”-এর আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধকদের মতে, এই ধাম কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান নয়—এটি নামজপ (যেমন: ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ), আত্মশুদ্ধি এবং ভক্তিমার্গ অনুশীলনের একটি পবিত্র ক্ষেত্র।

শ্রীশ্রী কাল্কি অবতার এবং শম্ভল ধামের আধ্যাত্মিক রহস্য এই ভিডিওটিতে সনাতন শ্বাস্ত্র অনুযায়ী ভগবান কাল্কির আবির্ভাব স্থান শম্ভল ধাম এবং এর পৌরাণিক ইতিহাস সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।




মালোবাবা কী?

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার তত্ত্বে ব্যাক্ষা: শ্রীশ্রীকাল্কি পরমেশ্বর ভগবান পরম্‌বৈষ্ণব সদ্‌গুরু মহাৠষি মালোবাবা (তাপস মালো) | শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা। একজন যোগী, যোদ্ধা, শিল্পী, লেখক, কবি, শ্বাস্ত্রবীদ্‌,আচার্য্য, স্ব-গায়েত্রী, স্ব-যন্ত্র, স্ব-মন্ত্রের অধীকারী,সত্য শাশ্বত্‌

গুরু এবং গুরুকূল

গুরু শব্দের অর্থ, ব্যুৎপত্তি এবং গুরুকুলের বিশদ আলোচনাভারতীয় বৈদিক, উপনিষদীয় ও আধ্যাত্মিক পরম্পরায় ‘গুরু’ এবং ‘গুরুকুল’ শব্দ দুটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। গুরু কেবল একজন শিক্ষক নন; ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরায় তিনি শিষ্যকে

নিয়ম ১.৪ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।নিয়ম ১.৪!!সূত্রঃ “চতুর্থুগে সমপদম্ শ্রীশ্রীকাল্কি চতুর্থুগনামং!মালোবাবায়ং প্রদও চতুর্থগনানকীর্ত্তনঃ নিত্যকুরুহং !!অর্থঃ ” শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার প্রদত্ত চতুর্থ যুগনাম গুণকীর্তন এবং সমপদ মহাবেদ সংগীত নিত্যকর্ম্মে করা

🙏 সাবর্ণী মন্বন্তর (সাবর্ণী সত্য যুগ)🙏

সাবর্ণী মন্বন্তর ও সাবর্ণী সত্যযুগ: পুরাণের আলোকে আপনি যে ‘সাবর্ণী মন্বন্তর’ (Sāvarṇi Manvantara) এবং ‘সাবর্ণী সত্যযুগ’-এর কথা বলেছেন, সেখানে দুটি ধারণার পার্থক্য বোঝা জরুরি। পুরাণে অষ্টম মন্বন্তরের কথা স্পষ্টভাবে রয়েছে।

Shri Shri Basisthananda saraswati.✍️

🙏 Vande Malobabayong 🙏 সকল ঈশ্বর সন্তানদের প্রতি বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সকলের জীবন মঙ্গল ও শুভযাত্রার সূচনা হোক এবং সাবর্ণী মনূষ্য ধর্ম্মের প্রারম্ভিক পর্যায়ে সকলকে মালোবাবার দশ মহাযোগ

আজকের আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত :

মিটিং উপস্থিত সাধারণ সদস্যদের অবস্থান নিচে দেওয়া হইল আজ সাবর্ণী কল্পকালের ৫৪৯ তম দিবস ২৭/০৬/০০০২ সা.ম দৈব্য বর্ষের ৬৪ তম দিবস নিত্য বৃহস্পতি বার (সময় রাত্রি ৮ঘটিকা হইতে ১০ ঘটিকা

White Card ‘সদস্যপদ’ রৌপ্যপদক প্রাপ্তি

“স্বয়ংবল গুরুকুল তপস্যার পদোন্নতি প্রাপ্তিতে প্রথম পদক ‘সাদা পদক’ বা ‘রৌপ্য পদক’ তপস্যার মূল দশটি নিয়ম পালন করে প্রাপ্তি করিতে হয় এবং স্বাধ্যায়নে পরীক্ষামূলক বা গবেষণা মূলক ভাবে অনুশীলন করিতে

নিয়ম ১.৩ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।নিয়ম ১.৩!!সূত্রঃ নিত্য মালোবাবায়ং মহাবেদ ব্রহ্মসূত্রঃ মহামন্ত্রঃ পাঠে একৈশ্বরঃ সত্য ধারণম্ !!অর্থঃ ” নিত্য মালোবাবায়ং মহাবেদ ব্রহ্মসূত্রঃ মহামন্ত্রঃ পাঠ করা এবং শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবাই এক

अनुष्का यादव

श्री श्री जनक देवदासी अनुष्का ब्रह्मचारणी तपस्या – 1- तीन दिवस योग साधना (अक्षर ब्रह्म) 2- 7 दिवस योग साधना (शिव योग) शिक्षा- 10th पास श्री श्री जनक देवदासी अनुष्का

সৌমেন বিশ্বাস

শ্রীশ্রীচন্দ্রসৌমানন্দ ব্রহ্মচারী গ্রাম+ডাকঘর : ভীমপুর , থানা – ভীমপুর, জেলা -নাদিয়া , পিন – ৭৪১১৬৭ ভারতবর্ষ শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক। তপস্যা : সপ্ত দিবস শিবযোগ দর্শন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *