*** সনাতন ধর্ম্ম ! কী?

মালোবাবার দর্শনে সনাতন ধর্ম্ম ও সাবর্ণী মনূষ্য ধর্ম্ম, ব্রহ্মতত্ত্ব, যোগ ও আত্মজাগরণ ***

মালোবাবা তাপস মালোর দর্শন বুঝতে হলে তাঁর সঙ্গে যুক্ত আধ্যাত্মিক পরিচয়, স্বয়ংবল গুরুকুলের প্রকাশিত বক্তব্য এবং সনাতন ধর্ম্মের প্রাচীন শাস্ত্রীয় দর্শন—এই তিনটি বিষয় পাশাপাশি বিচার করা প্রয়োজন।

আপনার আগে উল্লেখ করা Swayambal Gurukul-এর পরিচিতিতে মালোবাবাকে যোগ, মার্শাল আর্ট, স্বাস্থ্য, জীবনযাপন ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পূর্বে আলোচিত তথ্য অনুযায়ী, মননশীলতা, করুণা, কৃতজ্ঞতা ও আত্মপর্যালোচনাও তাঁর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার বিষয় হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে।

***সাবর্ণী মনুষ্যধর্ম্মঃ স্বয়ংস্থাপক***

Shrishrikalki Maharishi Malobaba (Tapas Malo)একজন যোগী, যোদ্ধা, শিল্পী, লেখক, কবি, শ্বাস্ত্রবীদ্‌,আচার্য্য, স্ব-গায়েত্রী, স্ব-যন্ত্র, স্ব-মন্ত্রের অধীকারী,সত্য শাশ্বত্‌ মনুষ্যধর্ম্ম জাগরণকারী’। শ্রীশ্রীকাল্কি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং মহাবেদ সহ ১৪টি উপনিষদ্ এবং ১০টি মহাযোগ তত্ত্বের প্রবর্ত্তা । নিত্য বর্ষসংহতা এবং দৈব্যবর্ষ সংহিতার রচনাকার, গণনাকারী এবং সাবর্ণী মন্বন্তর এর নবযুগ স্থাপনকারী।ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ !!১০৮!!

১. মনুষ্যধর্ম্ম মানুষ হিসেবে জাগ্রত হওয়া

আপনার দেওয়া বাণীটির প্রথম অংশ:

“সাবর্ণী মনুষ্যধর্ম্মঃ স্বয়ংস্থাপক”

এখানে ‘মনুষ্যধর্ম্ম’ ধারণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর সম্ভাব্য দার্শনিক অর্থ হলো—মানুষের মধ্যে সত্য, বিবেক, সংযম, দায়িত্ববোধ ও আত্মজ্ঞান জাগিয়ে তোলা।

সনাতন ধর্ম্মের দৃষ্টিতে মানুষ হওয়া কেবল শারীরিক জন্মের বিষয় নয়; নিজের আচরণকে নৈতিক ও জ্ঞানমুখী করে তোলাও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৬.১–৩-এ নির্ভয়তা, অন্তরের শুদ্ধি, আত্মসংযম, সত্য, অহিংসা, দয়া ও অলোভের মতো গুণের উল্লেখ রয়েছে।

এই ভিত্তিতে একটি ব্যবহারিক ব্যাখ্যা হতে পারে:

  • সত্য কথা বলা ও সত্য অনুসন্ধান করা।
  • নিজের ক্রোধ, লোভ ও অহংকারকে পর্যবেক্ষণ করা।
  • অন্যের প্রতি করুণা ও দায়িত্বশীল আচরণ করা।
  • শরীর, মন ও বুদ্ধির উন্নতির জন্য নিয়মিত সাধনা করা।
  • নিজের বিশ্বাসকেও বিচারবুদ্ধি ও আত্মপর্যালোচনার মাধ্যমে পরীক্ষা করা।

*** মালোবাবার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ***

সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউরোলজির (Numerology) সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ক্যাল্ডিয়ান পদ্ধতি (Chaldean Numerology) এবং প্রতীকী দর্সনের আলোকে ‘মালোবাবা’ (MALOBABA) নামটির একটি গভীর ও গবেষণামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:১. ক্যাল্ডিয়ান সংখ্যাতত্ত্বে নামের অক্ষরের মান বিশ্লেষণক্যাল্ডিয়ান পদ্ধতিতে প্রতিটি ইংরেজি অক্ষরের নিজস্ব একটি নির্দিষ্ট কম্পন বা সংখ্যাগত মান রয়েছে (যা হিব্রু ও প্রাচীন গ্রিক অক্ষরের ফ্রিকোয়েন্সির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ):M = 4A = 1L = 3O = 7B = 2A = 1B = 2A = 1২. গাণিতিক বিভাজন ও ধাপসমূহপ্রথমাংশ ‘MALO’-এর যোগফল: 4 + 1 + 3 + 7 = 15 এখানে যৌগিক সংখ্যা ১৫-এর একক রূপান্তর: 1 + 5 = \mathbf{6} (সংখ্যাতত্ত্বে ৬ সংখ্যাটি শান্তি, সামঞ্জস্য, এবং ঐক্যের প্রতীক)দ্বিতীয়াংশ ‘BABA’-এর যোগফল: 2 + 1 + 2 + 1 = 6 এখানে একক রূপান্তর: \mathbf{6} (পিতৃসুলভ সুরক্ষা, করুণা ও অভিভাবকত্বের কম্পন)সম্পূর্ণ নাম ‘MALOBABA’-এর যৌথ যোগফল: 15 + 6 = \mathbf{21}চূড়ান্ত একক মূল সংখ্যা (Single Digit Root): 21 \rightarrow 2 + 1 = \mathbf{3}৩. গভীর গবেষণামূলক ও দার্শনিক ব্যাখ্যাএই সংখ্যাতাত্ত্বিক বিন্যাসটি তিনটি স্তরে বিশেষ অর্থ বহন করে:ক. মূল একক সংখ্যা ‘৩’ এবং দেবগুরু বৃহস্পতি (Jupiter)মালোবাবা নামের একক যোগফল ৩। সংখ্যাতত্ত্বে ৩ হলো জ্ঞানের গ্রহ বৃহস্পতির সংখ্যা।দার্শনিক তাৎপর্য: এই সংখ্যাটি উচ্চমার্গীয় জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সৃষ্টিশীলতা এবং দর্শনচর্চাকে নির্দেশ করে। যে নামের মূলোৎপত্তি ৩, সেই নামের ধারক বা ধারাটি সাধারণত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখানোর বা গুরুস্থানীয় ভূমিকা পালনের মানসিকতা ধারণ করে। এটি আধ্যাত্মিক প্রসার ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক।খ. শক্তিশালী যৌগিক সংখ্যা ‘২১’ এবং এর বৈশ্বিক রূপ (The Universe)ক্যাল্ডিয়ান ও পশ্চিমা সংখ্যাতত্ত্বে ২১ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং শুভ যৌগিক সংখ্যা। একে অনেক সময় “The Universe” বা বিশ্বজনীন সাফল্য বলা হয়।গবেষণামূলক তাৎপর্য: এই সংখ্যাটি নির্দেশ করে যে কোনো দীর্ঘ সাধনা, আত্মত্যাগ ও লোককল্যাণমূলক কাজের পর তা বিশ্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করবে। এটি এমন এক কম্পন যা ব্যক্তি বা আদর্শকে সাধারণ সীমানা ছাড়িয়ে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।গ. ৬ ও ৬-এর সমন্বয় (संतुलन ও করুণা)নামের প্রথমাংশ (MALO) এবং দ্বিতীয়াংশ (BABA) উভয়ের যোগফল যখন আলাদাভাবে ৬ এবং ৬ হয়, তখন এটি এক অপূর্ব ভারসাম্য বা ব্যালেন্স তৈরি করে। সংখ্যাতত্ত্বে ৬ হলো সৃষ্টির এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সংখ্যা। এটি সমাজসেবা, মানবপ্রেম এবং মানুষের দুঃখ হরণের সহজাত প্রবৃত্তিকে ফুটিয়ে তোলে।সারসংক্ষেপনিউরোলজিক্যাল বা সংখ্যাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, ‘মালোবাবা’ নামটি কোনো সাধারণ বা সাময়িক শব্দ নয়; বরং এটি এমন এক কম্পন তৈরি করে যা প্রজ্ঞা (৩), বিশ্বজনীন সাফল্য (২১), এবং নিঃস্বার্থ মানবসেবা ও করুণার (৬) এক অপূর্ব সেতুবন্ধন রচনা করে।

২. অক্ষর ব্রহ্ম: চিরন্তন সত্যের ধারণা

মালোবাবাকে কেন্দ্র করে আগে আলোচিত ধারণাগুলির মধ্যে অক্ষর ব্রহ্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক বিষয়। তবে এটি তাঁর নিজস্ব দর্শনে ঠিক কীভাবে সংজ্ঞায়িত, তার প্রামাণ্য মূল উদ্ধৃতি এখনো নিশ্চিত নয়।

সংস্কৃতে:

  • অক্ষর (अक्षर): যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না; অবিনশ্বর।
  • ব্রহ্ম (ब्रह्मन्): পরম সত্য বা সর্বোচ্চ বাস্তবতা—বিভিন্ন দর্শনে যার ব্যাখ্যা ভিন্ন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৮.৩-এ বলা হয়েছে:

“অক্ষরং ব্রহ্ম পরমম্।”

অর্থ: অক্ষর ব্রহ্ম পরম।

এখানে শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মকে পরম ও অবিনশ্বর তত্ত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

উপনিষদীয় দর্শনে এই প্রশ্নটি আরও গভীর: পরিবর্তনশীল জগতের পেছনে কোনো অপরিবর্তনীয় সত্য আছে কি? সেই সত্যের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক কী?

অদ্বৈত বেদান্তে ব্রহ্মকে চূড়ান্ত বাস্তবতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। অন্যদিকে দ্বৈত ও বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনে ঈশ্বর, জীব ও জগতের সম্পর্ক ভিন্নভাবে বোঝানো হয়।

মালোবাবার দর্শনে অক্ষর ব্রহ্মকে যদি আত্মজ্ঞান ও চিরন্তন সত্যের উপলব্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে সেটি এই বৃহত্তর বেদান্তীয় প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিন্তু তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা জানতে তাঁর মূল লেখা বা বক্তৃতা প্রয়োজন।

৩. পরা বিদ্যা: আত্মজ্ঞান লাভের শিক্ষা

মুণ্ডক উপনিষদ ১.১.৪–৫-এ বিদ্যাকে দুটি ভাগে আলোচনা করা হয়েছে:

  • অপরা বিদ্যা: বেদ, শিক্ষা, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ, জ্যোতিষ ইত্যাদি শাস্ত্রীয় জ্ঞান।
  • পরা বিদ্যা: যে বিদ্যার দ্বারা অক্ষর ব্রহ্মকে জানা যায়।

উপনিষদের মূল বক্তব্য:

“অথ পরা যয়া তদক্ষরমধিগম্যতে॥”

অর্থ: আর পরা বিদ্যা সেই বিদ্যা, যার দ্বারা সেই অবিনশ্বর তত্ত্বকে উপলব্ধি করা যায়।

এই ধারণার আলোকে জ্ঞানকে শুধু তথ্য সংগ্রহ হিসেবে না দেখে আত্মজ্ঞান ও সত্য উপলব্ধির পথ হিসেবেও বোঝা যায়।

মালোবাবার সঙ্গে যুক্ত আধ্যাত্মিক শিক্ষায় যদি পরা বিদ্যা ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে তিনটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ:

1. এই বিদ্যা কি আত্মার স্বরূপ জানার শিক্ষা?

2. এটি কি ধ্যান, যোগ ও আত্মপর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্জনীয়?

3. এর ব্যাখ্যা কি উপনিষদীয় দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, নাকি এটি একটি আধুনিক স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা?

মূল বক্তব্য ছাড়া এই প্রশ্নগুলির উত্তর নিশ্চিতভাবে দেওয়া যাবে না।

৪. দেহতত্ত্ব: শরীর, মন ও চেতনা

যোগ ও ভারতীয় দর্শনে দেহকে শুধু মাংস, হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমষ্টি হিসেবে দেখা হয় না। মানুষের অনুভূতি, চিন্তা, ইন্দ্রিয়, মন ও চেতনার সম্পর্কও আলোচিত হয়।

International Yoga Day 2019: A beginners guide to yoga | Health News - The Indian Express
Our Holistic Mantra | AWC
Discovering a true sense of harmony: Contemplation and Care Practices
The Three Bodies and Five Koshas – Soul Sanctuary
Koshas ~ The Five Sheaths that Wrap Your Soul | Yoga sutras, Chakra meditation, Yoga philosophy
Advaita Vedanta : l’unité au-delà des dualités !
Relating to the Koshas

তৈত্তিরীয় উপনিষদের ব্রহ্মানন্দবল্লীতে পঞ্চকোষের ধারণা পাওয়া যায়:

কোষপ্রচলিত ব্যাখ্যা
অন্নময় কোষখাদ্যনির্ভর স্থূল শরীর
প্রাণময় কোষপ্রাণ বা জীবনক্রিয়ার স্তর
মনোময় কোষমন ও মানসিক অভিজ্ঞতার স্তর
বিজ্ঞানময় কোষবুদ্ধি ও বিচারবোধের স্তর
আনন্দময় কোষআনন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত সূক্ষ্ম স্তর

এই ধারণা আত্মপরিচয় ও মানুষের অভিজ্ঞতার স্তরগুলি বোঝার একটি ঐতিহ্যগত দার্শনিক পদ্ধতি। এগুলিকে আধুনিক শারীরবিদ্যার পাঁচটি পৃথক অঙ্গ বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত শক্তিক্ষেত্র বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

মালোবাবার সঙ্গে যুক্ত দেহতত্ত্বের আলোচনা করতে গেলে দেখতে হবে, তিনি এই পঞ্চকোষের ধারণা গ্রহণ করেছেন কি না, এবং করলে তার ব্যাখ্যা কী।

৫. যোগ, ধ্যান ও আত্মপর্যবেক্ষণ

মালোবাবার প্রকাশিত পরিচিতিতে যোগ ও মার্শাল আর্টের উল্লেখ রয়েছে। এই দুটি ক্ষেত্র শরীরের শৃঙ্খলা, মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং অনুশীলনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পতঞ্জলির যোগসূত্র ১.২-এ যোগের সংজ্ঞা:

“যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধঃ॥”

অর্থ: যোগ হলো চিত্তের বৃত্তিগুলির নিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ।

যোগসূত্রের এই ধারণাকে ব্যবহারিকভাবে বোঝা যায় এভাবে:

  • নিজের চিন্তা ও আবেগকে লক্ষ্য করা।
  • মনোযোগের স্থিরতা বৃদ্ধি করা।
  • প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
  • নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আত্মসংযম গড়ে তোলা।

ধ্যানকে কোনো অলৌকিক ক্ষমতা অর্জনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি মনোযোগ ও আত্মপর্যবেক্ষণের একটি অনুশীলন।

৬. নাম, রূপ ও কল্কি-তত্ত্ব

আপনার দেওয়া বাণীতে বলা হয়েছে:

“নাম রূপে অবতীর্ণ শম্ভলের শ্রীশ্রীকাল্কি ধরাতে প্রকাশ হন ‘মালোবাবা’ নামে।”

এই বক্তব্যে তিনটি দার্শনিক ধারণা একত্রিত হয়েছে:

নাম: ঈশ্বরকে নামের মাধ্যমে স্মরণ ও উপাসনা।

রূপ: ঈশ্বরের ধ্যানযোগ্য বা উপাস্য স্বরূপ।

অবতার: ধর্মরক্ষা ও ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের অবতরণ—বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্বে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।

শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ ১২.২.১৮–২০-এ কল্কির আবির্ভাবের কথা রয়েছে। কিন্তু সেখানে মালোবাবা বা তাপস মালো নামটি নেই।

সুতরাং এখানে দুটি বিষয় আলাদা:

  • কল্কি অবতারের প্রতি বিশ্বাস হিন্দু পুরাণ ও বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্বের অংশ।
  • মালোবাবা তাপস মালোকে সেই অবতারের বর্তমান প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা একটি পৃথক ধর্মীয় দাবি, যার নিজস্ব প্রমাণ ও ব্যাখ্যা পরীক্ষা করা দরকার।

৭. করুণা, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধি

মালোবাবার সঙ্গে যুক্ত প্রকাশিত পরিচিতিতে মননশীলতা, করুণা, কৃতজ্ঞতা ও আত্মপর্যালোচনার মতো বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে বলে আগে আলোচনা হয়েছিল। এগুলিকে সাধারণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবে বোঝা যায়।

  • করুণা: অন্যের দুঃখ উপলব্ধি করে সহায়তার মনোভাব গড়ে তোলা।
  • কৃতজ্ঞতা: প্রাপ্ত সাহায্য ও জীবনের ইতিবাচক দিকগুলিকে স্বীকার করা।
  • আত্মপর্যালোচনা: নিজের আচরণ, উদ্দেশ্য ও ভুল বিচার করা।
  • মননশীলতা: বর্তমান অভিজ্ঞতাকে সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

এগুলি বিভিন্ন ভারতীয় দর্শন ও আধুনিক মননশীলতার চর্চায় পাওয়া যায়। তাই এগুলিকে একান্তভাবে মালোবাবার উদ্ভাবিত শিক্ষা বলা যাবে না, যদি না তাঁর নিজস্ব গ্রন্থে তার স্পষ্ট ভিত্তি থাকে।

৮. মালোবাবার দর্শন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কী সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়?

অক্ষর ব্রহ্ম, পরা বিদ্যা, যোগ, আত্মসংযম, ধর্মাচরণ এবং ভক্তি—এসব ধারণার প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রীয় ভিত্তি রয়েছে।

যা আরও যাচাই করা দরকার

মালোবাবার নিজস্ব মনুষ্যধর্ম-দর্শনের পূর্ণ সংজ্ঞা, তাঁর মূল বাণীর উৎস, অক্ষর ব্রহ্ম ও পরা বিদ্যা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা এবং তাঁর গুরুপরম্পরা।

যা ধর্মীয় দাবি হিসেবে আলাদা রাখা উচিত

যা শাস্ত্রীয়ভাবে সমর্থিত

আপনি Swayambal Gurukul-এর মূল প্রবন্ধের সম্পূর্ণ লেখা, তাঁর বক্তৃতার লিংক, বইয়ের পৃষ্ঠা অথবা “সাবর্ণী মনুষ্যধর্ম্মঃ স্বয়ংস্থাপক” বাণীটির উৎস পাঠালে আমি সেই উপাদান ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন-সমীক্ষা তৈরি করতে পারব। তাতে প্রতিটি বক্তব্যের পাশে মূল উদ্ধৃতি, বাংলা অর্থ, শাস্ত্রীয় তুলনা এবং যাচাইয়ের অবস্থা দেওয়া যাবে।

এভাবে আমরা মালোবাবার নিজস্ব দর্শন কী, তার কোন অংশ প্রাচীন সনাতন দর্শনের সঙ্গে মেলে এবং কোন অংশ তাঁর স্বতন্ত্র ধর্মীয় ব্যাখ্যা—তা স্পষ্টভাবে পৃথক করতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *