শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।
নিয়ম ১.৪!!
সূত্রঃ “চতুর্থুগে সমপদম্ শ্রীশ্রীকাল্কি চতুর্থুগনামং!
মালোবাবায়ং প্রদও চতুর্থগনানকীর্ত্তনঃ নিত্যকুরুহং !!
1
অর্থঃ ” শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার প্রদত্ত চতুর্থ যুগনাম গুণকীর্তন এবং সমপদ মহাবেদ সংগীত নিত্যকর্ম্মে করা একান্ত প্রয়োজন।”
ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ !!১০০৮!!
2

শ্বাস্ত্র নামঃ নিয়ম ১.৪ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!
লেখকঃ শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা
প্রকাশকঃ স্বয়ংবল গুরুকুল প্রকাশনি
স্থানঃ শ্রীশ্রী কাল্কিশ্বর ধাম, শম্ভল ধাম( ত্রিবেণী- কালনা)।
সত্যানন্দপুর, শেরপুর উত্তরপাড়া, নয়াসরাই, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ ৭১২৫১৩

  1. নিয়ম সূত্রঃ ১.৪ ↩︎
  2. শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার মূল মন্ত্রঃ ↩︎



শ্রীশ্রীকাল্কি মালোসংহিতা গ্রন্থের এই চতুর্থ শ্লোকটি বা নিয়ম ১.৪ সাধকের প্রতিদিনের সাধনায় এক নতুন মাত্রার যোগ ঘটায়। পূর্ববর্তী নিয়মগুলোতে যেখানে প্রাতঃকালীন নাম জপ, ধ্যান এবং এক ঈশ্বর সত্য ধারণ করার কথা বলা হয়েছে, এই নিয়মে সাধকের নিত্য সংকীর্তন ও সমপদ সংগীতের অনন্য বিধান নির্দেশ করা হয়েছে।

(দ্রষ্টব্য: শ্লোকের মূল শিরোনামে নিয়ম ১.৪ উল্লিখিত হলেও গ্রন্থসংকেতে ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বিষয়বস্তুটি মালোসংহিতার চতুর্থ নিয়মানুষ্ঠানেরই প্রকাশ।)

মালোসংহিতা: নিয়ম ১.৪ (বিশ্লেষণ ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য)

  • মূল সূত্র: “চতুর্থুগে সমপদম্ শ্রীশ্রীকাল্কি চতুর্থুগনামং! মালোবাবায়ং প্রদও চতুর্থগনানকীর্ত্তনঃ নিত্যকুরুহং !!”
  • অর্থ: শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার দ্বারা প্রদত্ত চতুর্থ যুগের পরম নাম (যুগনাম) গুণকীর্তন করা এবং সমপদ সংগীতকে প্রাত্যহিক নিত্যকর্মের অংশ হিসেবে গায়ন ও স্মরণ করা সাধকের পরম কর্তব্য।
  • মূল মন্ত্র ও সংখ্যা: \text{“ ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ ” (১০০৮ বার)}

এই নিয়মের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য

১. চতুর্থ যুগনাম ও গুণকীর্তনের মহিমা: প্রতিটি যুগের জন্য সুনির্দিষ্ট নাম ও তার কীর্তনের বিশেষ মাহাত্ম্য থাকে। কলিযুগ তথা এই চতুর্থ যুগে শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবা যে যুগনাম ও প্রদেয় সংকীর্তন প্রকাশ করেছেন, তা অনুকীর্তন ও গায়ন করলে সাধকের হৃদয়ের সমস্ত তমোভাব, পাপ ও জড়তা দ্রুত দূর হয়ে পরম শুদ্ধি লাভ হয়।

২. সমপদ সংগীতের ভূমিকা: সংগীত ও সুরের মাধ্যমে নামজপ হৃদয়ের গভীরতম স্তরে সহজেই সাড়া তোলে। ‘সমপদ’ অর্থাৎ ছান্দিক ও সমতা বজায় রেখে যে কীর্তন ও সংগীত গায়িত হয়, তা সাধকের শ্বাস-প্রশ্বাস, মন ও চেতনার তরঙ্গকে একসূত্রে গ্রথিত করে।

৩. নিত্যকর্মের আবশ্যকতা (নিত্যকুরুহং): জপ-ধ্যানের মতোই এই নাম সংকীর্তনকেও প্রতিদিনের অবধারিত নিয়ম (নিত্যকর্ম) হিসেবে পালন করতে বলা হয়েছে। এটি কেবল কোনো উৎসবের বিষয় নয়, বরং দৈনিক আধ্যাত্মিক খাদ্যের মতো।

ব্যবহারিক সাধনায় এই নিয়ম পালনের দিক-নির্দেশনা

  • সময় নির্ধারণ: সাধারণত সায়াহ্নকালে (সন্ধ্যা আরতির পর) বা প্রাতঃকালীন জপ-ধ্যান শেষে সমপদ সংগীত ও গুণকীর্তন গায়ন করা অত্যন্ত শুভপ্রদ।
  • সমবেত বা একক অনুশীলন: একাকী বা পরিবারের অন্যান্য ভক্তদের সাথে সমবেত কণ্ঠে সমপদ কীর্তন করলে ঘরের সমস্ত বায়ুমণ্ডল পবিত্র ও দিব্য স্পন্দনে পূর্ণ হয়ে ওঠে।
  • ভক্তি ও ছন্দ: সংকীর্তনের সময় বাহ্যিক চঞ্চলতা ত্যাগ করে হৃদয়ের আকুলতা ও সুরের ছন্দ মেলানোই এই নিয়মের প্রকৃত সৌন্দর্য।

নিয়ম ১.৪!!
সূত্রঃ “চতুর্থুগে সমপদম্ শ্রীশ্রীকাল্কি চতুর্থুগনামং!
মালোবাবায়ং প্রদও চতুর্থগনানকীর্ত্তনঃ নিত্যকুরুহং
!!
অর্থঃ ”
শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার প্রদত্ত চতুর্থ যুগনাম গুণকীর্তন এবং সমপদ মহাবেদ সংগীত নিত্যকর্ম্মে করা একান্ত প্রয়োজন।”
ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ !!১০০৮!!


 প্রথম ভজন সংগীতঃ
হরি মালোবাবায়ং কৈবল্যম |
ওঁ মালোবাবায়ং কৈবল্যম |
তুমি মাতা-পিতা আনন্দম |
ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ
 দ্বিতীয় মহাবেদ সংগীতঃ(যুগনাম গান)
"শ্রীহরি শ্রীরাম শ্রীকষ্ণ
শ্রীশ্রীকাল্কি স্বয়ং ভগবান।"
 তৃতীয় মহাবেদ সংগীতঃ(অষ্টনাম গান)
"শ্রীকষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভূ মালোবাবানন্দম্|
শ্রীহরি নারায়ণ বিষ্ণু তপস্যানন্দম্" ||
 চতুর্থ মহাবেদ সংগীতঃ ( দশনাম গান)
"রমাপরাশক্তিসীতা এব্ শ্রীরাধা জ্ঞানম্ ।
কাল্কিকৃষ্ণরামশিব এব শ্রীশ্রীমালোবাবায়ং" ।।


নিত্য সাধনায় সমপদ সংগীত এবং চতুর্থ যুগনাম কীভাবে গায়ন বা অনুকীর্তন করা উচিত?

শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার নিয়ম ১.৪ অনুযায়ী প্রাতঃকালীন বা সায়াহ্নকালীন নিত্য সাধনায় চতুর্থ যুগনামের গুণকীর্তন এবং সমপদ সংগীত গায়ন করার কিছু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও ভাবরীতি রয়েছে। বাহ্যিক সুর বা গলার আওয়াজের চেয়ে সাধকের অন্তরের ভক্তি এবং নাম বাণীর প্রতি একাগ্রতাই এখানে প্রধান।

নিত্য সাধনায় এই সংকীর্তন ও সমপদ সংগীত নির্ভুল ও ফলদায়কভাবে গায়নের পদ্ধতিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. পরিবেশ ও মানসিক প্রস্তুতি (Ambience & Mindset)

  • পবিত্রতা ও বসার স্থান: ইষ্টদেবতা বা শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার ছবির সামনে অথবা নির্দিষ্ট জপবেদির সামনে ধূপ-প্রদীপ জ্বালিয়ে পবিত্র পরিবেশে বসুন।
  • মানসিক স্থিরতা: গান গাওয়ার আগে বা কীর্তন শুরু করার আগে ২ মিনিট চোখ বন্ধ করে মন থেকে সমস্ত জাগতিক ক্লান্তি ও ভাবনা দূর করে নিন। অনুভব করুন যে, আপনি সাধারণ কোনো গান গাইছেন না, বরং চতুর্দশ ভূবনের ইষ্টের উদ্দেশ্যে দিব্য স্পন্দন পাঠাচ্ছেন।

২. চতুর্থ যুগনাম ও গুণকীর্তনের গায়ন পদ্ধতি (Chanting & Praise)

  • স্পষ্ট ও ধ্বনিযুক্ত উচ্চারণ: যুগনাম বা গুণকীর্তনের সময় শব্দ যেন অত্যন্ত অস্পষ্ট বা তাড়াহুড়ো করে উচ্চারণ করা না হয়। প্রতিটি পদের অর্থ ও সুর যেন আপনার নিজের কানে স্পষ্ট শোনা যায়।
  • তাল ও ছন্দের সামঞ্জস্য (সমপদ): ‘সমপদ’ অর্থ হলো ছন্দের সমতা ও পরিমিতিবোধ। কীর্তন বা নাম গায়নের সময় সুর যেন অতিরিক্ত উগ্র বা বিক্ষিপ্ত না হয়ে একটি শান্ত, ধীর ও সমালম্ব ছন্দে (Rhythm) প্রবহমান থাকে।
  • তালি বা করতাল ব্যবহার (প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে): সমপদ সংগীত গায়নের সময় যদি হাততালি বা করতাল ব্যবহার করেন, তবে তার ছন্দ যেন ইষ্টনামের সাথে মিলে একটি শান্ত ও গম্ভীর স্পন্দন তৈরি করে।

৩. ভক্তি ও অন্তরের সমর্পণ (Inner Devotion)

  • অর্থ উপলব্ধি করে গায়ন: কেবল মুখস্থ বুলির মতো কীর্তন না করে, প্রতিটি পদের ভেতরে যে আকুলতা ও ইষ্টের মহিমা লুকিয়ে রয়েছে, তা অন্তরে অনুভব করে গায়ন করুন।
  • অশ্রু ও পুলক: কীর্তন বা সমপদ গাওয়ার সময় যদি হৃদয়ে গভীর ভক্তি বা আনন্দের সঞ্চার হয় এবং চোখে জল আসে, তবে তাকে জোর করে আটকাতে যাবেন না। সেই ভক্তিভাবের মাঝেই নিজের কণ্ঠকে হারিয়ে যেতে দিন।

৪. সমাপনী প্রণাম ও স্তব্ধতা (Integration & Silence)

  • গান বা কীর্তন শেষ করার সাথে সাথেই তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়াবেন না।
  • সংকীর্তন শেষ হওয়ার পর অন্তত ১ মিনিট সম্পূর্ণ নীরব ও স্তব্ধ হয়ে বসে থাকুন। অনুভব করুন যে, আপনার গীত নাম এবং সুরের তরঙ্গ পুরো ঘরের বায়ুমণ্ডলে এবং সূক্ষ্ম স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর ইষ্টের চরণে প্রণাম জানিয়ে নিত্য সাধনা সম্পন্ন করুন।

নিত্য সাধনার সময় সমপদ সংগীতের জন্য ঘরের পরিবেশ ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের নিয়ম কী?

শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার নিয়ম ১.৪ অনুযায়ী নিত্য সাধনায় সমপদ সংগীত ও চতুর্থ যুগনাম কীর্তন করার সময় ঘরের পরিবেশ এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট সাত্ত্বিক নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। বাহ্যিক পরিবেশ এবং সুরের মাধ্যম যতই পবিত্র ও সংযত হবে, সাধকের মন ততই দ্রুত অন্তর্মুখী ও গভীর স্তরে উন্নীত হবে।

নিচে পরিবেশ ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের সঠিক নিয়মগুলো আলোচনা করা হলো:

১. ঘরের পরিবেশ ও শুচিতা (Environment & Purity)

  • শান্ত ও কোলাহলমুক্ত স্থান: সংকীর্তন বা সমপদ সংগীত গায়নের সময় ঘরের পরিবেশ যেন শান্ত থাকে। বাইরের গণ্ডগোল, টিভি বা রেডিওর আওয়াজ থেকে দূরে একটি নির্দিষ্ট কোণ বা পূজার ঘর বেছে নেওয়া উচিত।
  • ধূপ, দীপ ও সুবাস: কীর্তন শুরু করার আগে ঘরটি পরিষ্কার করে প্রদীপ এবং সুবাসিত ধূপ (যেমন চন্দন বা গুগগুলের ধূপ) জ্বালিয়ে নিন। সুগন্ধী পরিবেশ মনকে দ্রুত শান্ত ও পবিত্র করে তোলে।
  • আলোর বিন্যাস: খুব কড়া বা ঝকঝকে আলোর চেয়ে স্নিগ্ধ, মৃদু আলো বা প্রদীপের আলোয় সাধনার পরিবেশ অনেক বেশি অনুকূল হয়। এটি চোখের বিশ্রাম এবং মনের ভেতরের একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য करता।
  • বসার আসন: সরাসরি মেঝেতে বা ঠান্ডা মাটিতে না বসে, একটি পবিত্র কুশাসন, পশমের আসন বা পরিষ্কার সুতি চাদর বিছিয়ে তার ওপর স্থির হয়ে বসতে হবে।

২. বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের নিয়ম ও সংযম (Musical Instruments)

সমপদ সংগীত ও নাম কীর্তনে সুর এবং ছন্দের জন্য বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সাধনার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম মানা প্রয়োজন:

  • সাত্ত্বিক বাদ্যযন্ত্রের নির্বাচন: সংকীর্তনের জন্য এমন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা উচিত যা সাত্ত্বিক ভাব তৈরি করে—যেমন ছোট্ট খঞ্জরি, করতাল, একতারা, মৃদু মৃদঙ্গ বা হারমোনিয়াম। অতিরিক্ত উগ্র বা আধুনিক রক ঘরানার বাদ্যযন্ত্র সাধনার পক্ষে উপযুক্ত নয়।
  • সহজ ও মিতালী সুর (সমপদ রক্ষা): বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ যেন আপনার নিজের গলার আওয়াজ এবং ইষ্টনামের স্পষ্ট উচ্চারণকে ছাপিয়ে না যায়। বাদ্যযন্ত্রটি কেবল সুরের ভারসাম্য ও ছন্দের (Rhythm) সমতা বজায় রাখার জন্য একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে বাজাতে হবে।
  • একক সাধনায় করতাল বা মৃদু তালি: যদি আপনি একা নিত্য সাধনা করেন, তবে বড় কোনো বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন নেই; কেবল হাতের মৃদু তালি অথবা ছোট্ট করমলের ছান্দিক ধ্বনিই যথেষ্ট। এটি আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস ও মনের গতিকে একসূত্রে বাঁধতে সাহায্য করবে।

সাধনার সারাংশ: ঘর বা বাদ্যযন্ত্র বড় বিষয় নয়, আসল কথা হলো নিবেদন। ঘর যদি ছোট ও সাধারণও হয়, তবুও যদি মন ভক্তি ও ইষ্টের প্রেমে পরিপূর্ণ থাকে, তবে সেই সামান্য পরিবেশই চতুর্দশ ভূবনের দিব্য স্পন্দনে মুখরিত হয়ে ওঠে।


দীর্ঘ সময় জপ ও কীর্তন করার পর শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি দূর করার জন্য মালোসংহিতায় কী করণীয় বলা হয়েছে?

দীর্ঘ সময় ধরে ব্রহ্মসূত্র নাম জপ, ধ্যান এবং সমপদ সংগীত কীর্তন করার পর সাধকের শরীরে ও মনে এক ধরনের গভীর শক্তি ব্যয় হয়, যা থেকে সাময়িক শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার নির্দেশিত মালোসংহিতা এবং এই সাধনামার্গের নিয়মানুযায়ী এই ক্লান্তি দূর করার এবং শক্তি পুনঃসংগ্রহ করার সুনির্দিষ্ট কিছু বিধান ও পদ্ধতি রয়েছে।

ক্লান্তি দূর করার ও শরীর-মনকে পুনরায় স্থিতিশীল করার প্রধান উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১. শবাসন বা দীর্ঘ স্থৈর্য (Deep Rest and Shavasan)

  • জপ ও কীর্তন শেষ করার সাথে সাথেই দ্রুত উঠে কাজকর্ম বা লৌকিক কথাবার্তায় জড়িয়ে পড়া নিষেধ।
  • সাধনা শেষে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট মেঝেতে বা আসনে সম্পূর্ণ স্থির হয়ে বসে অথবা পিঠ সোজা রেখে বিশ্রাম নিতে হবে। প্রয়োজন হলে কিছুক্ষণের জন্য সমতল আসনে শবাসনের মতো শরীরকে সম্পূর্ণ শিথিল ছেড়ে দিয়ে মনে মনে ইষ্টনাম স্মরণ করতে হবে। এতে জপকালে উৎপাদিত সূক্ষ্ম শক্তি শরীরের প্রতিটি কোষে সঠিকভাবে বিন্যস্ত হয়।

২. উদক বা পবিত্র জল গ্রহণ (Consuming Consecrated Water)

  • জপের সময় শরীরে যে অভ্যন্তরীণ তাপ বা শক্তির প্রবাহ (Kundalini/Energy flow) তৈরি হয়, তা শান্ত করার জন্য জপ শেষে সামান্য গঙ্গাজল বা পবিত্র জল পান করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
  • এই জল তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি সূক্ষ্ম স্নায়ুমণ্ডলকে শীতল করে এবং মানসিক চাঞ্চল্য দূর করে।

৩. হাতের তালু ঘষে চোখে-মুখে স্পর্শ (Energy Balancing)

  • দীর্ঘক্ষণ চোখ বন্ধ করে জপ করার পর চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর সামান্য চাপ পড়তে পারে।
  • উভয় হাতের তালু পরস্পরের সাথে দ্রুত ঘষে যখন উষ্ণতা বা শক্তি অনুভূত হবে, তখন সেই উষ্ণ হাত দুটি আলতোভাবে চোখ এবং মুখের ওপর বুলিয়ে নিতে হবে। এটি চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং চেতনার বাহ্যিক স্তরে ফিরে আসতে সাহায্য করে।

৪. নীরবতা ও মৌনতা রক্ষা (Mauna / Silence)

  • জপ বা কীর্তনের অব্যবহিত পরেই কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা বা লৌকিক গল্পে মেতে ওঠা উচিত নয়।
  • অন্তত কিছু সময় মৌন বা শান্ত থেকে বাক্‌শক্তিকে সংযত রাখতে হবে। এই নীরবতা সাধকের অন্তরে সঞ্চিত জপশক্তিকে রক্ষা করে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে গভীর শান্তি এনে দেয়।

৫. ইষ্টের চরণে শারীরিক ক্লান্তি সমর্পণ (Surrender of Fatigue)

  • মালোসংহিতার মূল মার্গ হলো ‘সমর্পণ’। শারীরিক বা মানসিক কোনো রকম ক্লান্তি বা অবসাদ আসলেও তা নিজের দুর্বলতা হিসেবে না দেখে, জপের সমস্ত কর্মের মতো সেই ক্লান্তিটুকুও ইষ্টের চরণে সঁপে দিতে হবে।
  • মনে মনে ভাবুন— “হে শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবা, এই জপ সাধনায় আমার দেহ-মন যে শ্রম স্বীকার করেছে, তার সমস্ত ক্লান্তি আপনার চরণে নিবেদন করলাম। আপনি আমাকে নতুন শক্তি ও বল প্রদান করুন।”

সাধনার বার্তা: নাম জপ বা সংকীর্তন কোনো শারীরিক ব্যায়াম নয়, এটি আত্মিক জাগরণের মহাযজ্ঞ। তাই এই প্রক্রিয়ায় ক্লান্তি আসলেও তা সাধককে নিরাশার দিকে নিয়ে যায় না, বরং সঠিক বিশ্রামের মাধ্যমে তা এক নতুন দিব্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।


শ্রীশ্রীকাল্কি মালোসংহিতা গ্রন্থের এই চতুর্থ শ্লোকটি বা নিয়ম ১.৪ সাধকের প্রতিদিনের সাধনায় নামজপের পাশাপাশি কীর্তন ও সমপদ সংগীতের মাধ্যমে ইষ্টের দিব্য গুণগান ও ভগবৎ-আবেশ সৃষ্টির এক পরম প্রভাবশালী নির্দেশ।

জপের মাধ্যমে যেমন অন্তরের একাগ্রতা ও সূক্ষ্ম শক্তি পুঞ্জীভূত হয়, তেমনি সংগীত ও কীর্তনের মাধ্যমে সেই চেতনা আনন্দময় ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ লাভ করে।

মালোসংহিতা: নিয়ম ১.৪ (বিশ্লেষণ ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য)

  • মূল সূত্র: চতুর্থুগে সমপদম্ শ্রীশ্রীকাল্কি চতুর্থুগনামং! মালোবাবায়ং প্রদও চতুর্থগনানকীর্ত্তনঃ নিত্যকুরুহং !!
  • অর্থ: শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার প্রদত্ত চতুর্থ যুগের পরম নাম, সমপদ মহাবেদ সংগীত এবং চতুর্থ যুগনাম কীর্তন নিজের নিত্যকর্ম হিসেবে (প্রতিদিন) করা অত্যন্ত আবশ্যক বা একান্ত প্রয়োজন।
  • মূল মন্ত্র ও সংখ্যা: \text{“ ওঁ মালোবাবায়ং নমঃ ” (১০০৮ বার)}

এই নিয়মের অভ্যন্তরীণ ও সাধনাগত তাৎপর্য

১. চতুর্থ যুগের নাম ও কীর্তন মহিমা: বর্তমান কলিযুগ বা চতুর্থ যুগে নামসংকীর্তন এবং ভাবপূর্ণ গীতই সবচেয়ে সহজ ও মহাবলশালী সাধনা। শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবা সাধকদের কল্যাণে যে যুগনাম ও সমপদ সংগীত প্রদান করেছেন, তা নিত্য অনুশীলন করলে সাধকের চিত্তের সমস্ত জড়তা ও মলিনতা দ্রুত ধুয়ে মুছে যায়।

২. ‘সমপদম্’ ও সমপদ সংগীতের শক্তি: ‘সমপদ’ হলো তাল, লয়, সুর এবং ভাবের এক পরম সুসংহত মিশ্রণ। সমপদ সংগীত গাওয়ার সময় সাধকের স্বর, শ্বাস এবং মানসিক স্পন্দন এক সুনির্দিষ্ট ছন্দে বাঁধা পড়ে, যা শরীরের সুষুম্না নাড়ীকে উদ্দীপিত করে এবং হৃদয়কে পবিত্র প্রেমানন্দে ভরিয়ে তোলে।

৩. নিত্যকর্ম্মে ভক্তি ও কীর্তনের সংযোগ: কেবল নিভৃতে বসে নীরবে জপ করাই যথেষ্ট নয়; জপের সাথে সাথে উচ্চস্বরে বা সুর করে ইষ্টের কীর্তন ও গুণগান করা নিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা সাধকের চারপাশে এবং সাধনার স্থানে এক অপ্রতিরোধ্য দিব্য সুরক্ষা-বলয় তৈরি করে।

প্রাত্যহিক জীবনে এই নিয়ম পালনের ব্যবহারিক বিধি

  1. প্রাতঃ বা সায়াহ্নকালীন কীর্তন: প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যাবেলা জপ সম্পন্ন করার পর অথবা সন্ধ্যাবন্দনার সময়ে ভক্তিভরে শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবার প্রদত্ত চতুর্থ যুগনাম ও সমপদ সংগীত পাঠ বা গান করা উচিত।
  2. একক ও সম্মিলিত কীর্তন: এটি ব্যক্তিগতভাবে একান্তে সুর করে গাওয়া যেতে পারে, আবার ভক্তসঙ্গে বা পরিবারের সদস্যদের সাথে একত্রিত হয়ে সমবেত কণ্ঠেও করা যেতে পারে। সমবেত কীর্তনে এর শক্তি বহু গুণে বৃদ্ধি পায়।
  3. ভাব ও একাগ্রতা: কীর্তনের সময় সুর বা গায়কির চেয়ে অন্তরের আকুলতা, প্রেম ও ভক্তিভাবই প্রধান। পরম ইষ্টের সম্মুখে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে এই কীর্তন করা বাঞ্ছনীয়।



মালোবাবা কী?

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার তত্ত্বে ব্যাক্ষা: শ্রীশ্রীকাল্কি পরমেশ্বর ভগবান পরম্‌বৈষ্ণব সদ্‌গুরু মহাৠষি মালোবাবা (তাপস মালো) | শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবা। একজন যোগী, যোদ্ধা, শিল্পী, লেখক, কবি, শ্বাস্ত্রবীদ্‌,আচার্য্য, স্ব-গায়েত্রী, স্ব-যন্ত্র, স্ব-মন্ত্রের অধীকারী,সত্য শাশ্বত্‌

গুরু এবং গুরুকূল

গুরু শব্দের অর্থ, ব্যুৎপত্তি এবং গুরুকুলের বিশদ আলোচনাভারতীয় বৈদিক, উপনিষদীয় ও আধ্যাত্মিক পরম্পরায় ‘গুরু’ এবং ‘গুরুকুল’ শব্দ দুটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। গুরু কেবল একজন শিক্ষক নন; ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরায় তিনি শিষ্যকে

নিয়ম ১.৪ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।নিয়ম ১.৪!!সূত্রঃ “চতুর্থুগে সমপদম্ শ্রীশ্রীকাল্কি চতুর্থুগনামং!মালোবাবায়ং প্রদও চতুর্থগনানকীর্ত্তনঃ নিত্যকুরুহং !!অর্থঃ ” শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার প্রদত্ত চতুর্থ যুগনাম গুণকীর্তন এবং সমপদ মহাবেদ সংগীত নিত্যকর্ম্মে করা

🙏 সাবর্ণী মন্বন্তর (সাবর্ণী সত্য যুগ)🙏

সাবর্ণী মন্বন্তর ও সাবর্ণী সত্যযুগ: পুরাণের আলোকে আপনি যে ‘সাবর্ণী মন্বন্তর’ (Sāvarṇi Manvantara) এবং ‘সাবর্ণী সত্যযুগ’-এর কথা বলেছেন, সেখানে দুটি ধারণার পার্থক্য বোঝা জরুরি। পুরাণে অষ্টম মন্বন্তরের কথা স্পষ্টভাবে রয়েছে।

Shri Shri Basisthananda saraswati.✍️

🙏 Vande Malobabayong 🙏 সকল ঈশ্বর সন্তানদের প্রতি বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সকলের জীবন মঙ্গল ও শুভযাত্রার সূচনা হোক এবং সাবর্ণী মনূষ্য ধর্ম্মের প্রারম্ভিক পর্যায়ে সকলকে মালোবাবার দশ মহাযোগ

আজকের আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত :

মিটিং উপস্থিত সাধারণ সদস্যদের অবস্থান নিচে দেওয়া হইল আজ সাবর্ণী কল্পকালের ৫৪৯ তম দিবস ২৭/০৬/০০০২ সা.ম দৈব্য বর্ষের ৬৪ তম দিবস নিত্য বৃহস্পতি বার (সময় রাত্রি ৮ঘটিকা হইতে ১০ ঘটিকা

White Card ‘সদস্যপদ’ রৌপ্যপদক প্রাপ্তি

“স্বয়ংবল গুরুকুল তপস্যার পদোন্নতি প্রাপ্তিতে প্রথম পদক ‘সাদা পদক’ বা ‘রৌপ্য পদক’ তপস্যার মূল দশটি নিয়ম পালন করে প্রাপ্তি করিতে হয় এবং স্বাধ্যায়নে পরীক্ষামূলক বা গবেষণা মূলক ভাবে অনুশীলন করিতে

নিয়ম ১.৩ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!

শ্রীশ্রীকাল্কি মহাৠষি মালোবাবার নিত্য নিয়ম কানুন ।নিয়ম ১.৩!!সূত্রঃ নিত্য মালোবাবায়ং মহাবেদ ব্রহ্মসূত্রঃ মহামন্ত্রঃ পাঠে একৈশ্বরঃ সত্য ধারণম্ !!অর্থঃ ” নিত্য মালোবাবায়ং মহাবেদ ব্রহ্মসূত্রঃ মহামন্ত্রঃ পাঠ করা এবং শ্রীশ্রীকাল্কি মালোবাবাই এক

अनुष्का यादव

श्री श्री जनक देवदासी अनुष्का ब्रह्मचारणी तपस्या – 1- तीन दिवस योग साधना (अक्षर ब्रह्म) 2- 7 दिवस योग साधना (शिव योग) शिक्षा- 10th पास श्री श्री जनक देवदासी अनुष्का

সৌমেন বিশ্বাস

শ্রীশ্রীচন্দ্রসৌমানন্দ ব্রহ্মচারী গ্রাম+ডাকঘর : ভীমপুর , থানা – ভীমপুর, জেলা -নাদিয়া , পিন – ৭৪১১৬৭ ভারতবর্ষ শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক। তপস্যা : সপ্ত দিবস শিবযোগ দর্শন

One thought on “নিয়ম ১.৪ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !!”
  1. […] নিয়ম ১.৪ !! মালোসংহীতা !! MaloSamhita !! 🙏 সাবর্ণী মন্বন্তর (সাবর্ণী সত্য যুগ)🙏 Shri Shri Basisthananda saraswati.✍️ আজকের আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত : White Card ‘সদস্যপদ’ রৌপ্যপদক প্রাপ্তি […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *